আজ থেকে শুরু হলো মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। পবিত্র এই মাসটিকে ঘিরে মুসলমানদের বিশেষ প্রস্তুতি থাকে সব সময়ই। তবে এবার প্রস্তুতি নেই নিম্নবিত্ত আর শ্রমজীবীদের। করোনার কারণে কাজ হারানো এসব মানুষের পক্ষে রমজান মাসের ইফতারসামগ্রী ও নিত্যপণ্য কেনা সম্ভব হয়নি।
এদিকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আজ থেকেই দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে কঠোর লকডাউন। সেই সাথে বাংলা নতুন বছর-পহেলা বৈশাখ। তাই এবার বাঙালিয়ানা আবেগ আর মুসলিমদের বিশেষ ধর্মীয় অনুভূতিতে একাকার হয়ে ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে রমজান মাসের প্রথম দিনটি। যদিও প্রতি বছরের মতো এবারও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের লোভ থেকে রক্ষা পায়নি নাগরিকরা। তাই দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণের বিস্তারের মধ্যেও উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারলেও পারেনি নিম্নবিত্ত আর শ্রমজীবী মানুষরা। যদিও সরকার সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল ‘রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে’। কিন্তু রমজান মাস শুরুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের কথার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি নিত্যপণ্যের বাজারে। বরং ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয়কারী সরকারি সংস্থা-ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) পণ্য মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার টিসিবির বিক্রয়কর্মীরা তাদের ইচ্ছামতো পণ্য ক্রয়ে বাধ্য করছেন ক্রেতাদের। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকের পক্ষেই ভর্তুকি মূল্যে ওইসব পণ্য ক্রয় করাও সম্ভব হচ্ছে না।
গৃহপরিচারিকার কাজ করা রাহেরা খাতুন বলেন, ৫টি বাসায় কাজ করলেও করোনার কারণে চলতি মাস থেকে দুটি বাসার কাজ হারান তিনি। যে বেতন পাচ্ছেন তা দিয়ে বাড়তি কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। টিসিবির পণ্য কিনতে গিয়েও ফেরত আসতে হয়েছে। মিরপুর-১৪ নম্বরে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে গেলে তারা ২ কেজি করে মসুর ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, চিনি এবং এক কেজি খেজুর ও ৫ লিটার তেল বাবদ ৯৭০ টাকা চায়। তিনি জানান, তার চাহিদা ছিল এক কেজি করে চিনি, ছোলা, মসুর ডাল আর ২ লিটার তেলের। কিন্তু টিসিবির বিক্রয়কর্মীরা ‘প্যাকেজ’-এর বাইরে পণ্য বিক্রি করতে রাজি না হওয়াতে তিনি পণ্য না কিনে ফেরত আসেন।
এদিকে পবিত্র রমজান মাস শুরুর মাসখানের আগে থেকেই বাজারে পন্যের মূল্য লাগাম হারাতে থাকে। সর্বশেষ নিত্যপন্যের দাম বৃদ্ধির ক্রমধারায় রাজধানীর খুচরা বাজারে বাড়ানো হয় ৮টি পণ্যের দাম। চলতি মাসের শুরুতে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হয়। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল কিছুটা কম। এগুলো হলো মোটা চাল, খোলা ময়দা, বোতলজাত সয়াবিন তেল, আলু, দেশি রসুন, আদা, অ্যাংকর ডাল ও গুঁড়োদুধ।
টিসিবি সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ২ দশমিক ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ, প্রতি কেজি আলু ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, দেশি রসুন ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, আদা ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ, অ্যাংকর ডাল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও প্যাকেটজাত গুঁড়োদুধের দাম ১ দশমিক ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকা, সাত দিন আগে ছিল ৫৪০ টাকা। একইভাবে প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা, সাত দিন আগে ছিল ১০০ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হয়েছে ৩৮ টাকা, সাত দিন আগে ছিল ৩৬ টাকা। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা, সাত দিন আগে ছিল ৬০ টাকা। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ২০-২২ টাকা, সাত দিন আগে ছিল ১৮-২০ টাকা। প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, সাত দিন আগে ছিল ৪৫ টাকা। প্যাকেটজাত গুঁড়োদুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডিপ্লোমা গুঁড়োদুধ বিক্রি হয়েছে ৬৪০ টাকা, সাত দিন আগে ছিল ৬৩০ টাকা।
এদিকে রমজান উপলক্ষে খোলাবাজারে ভর্তুকি মূল্যে ছয়টি পণ্য বিক্রি শুরু করে টিসিবি। সারা দেশে ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে এই কার্যক্রম চলবে ৬ মে পর্যন্ত। তবে এবার টিসিবির পণ্যেও রমজানের আঁচ পড়েছে। বাড়ানো হয়েছে দাম। টিসিবি গত ১৭ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি লিটার সয়াবিন ৯০ টাকা দরে বিক্রি করলেও এখন ১০০ টাকায় বিক্রি করছে। প্রতি কেজি চিনি ও পেঁয়াজের দাম ৫০ ও ১৫ টাকা থাকলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ ও ২০ টাকায়।





