অপরাধ

রাজধানীতে এক চক্র বিক্রি করেছে দুইশ অস্ত্র

  • ইমরান আলী
  • প্রকাশিত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সীমান্তের ওপার থেকে ৫০ হাজার টাকায় কেনা নাইন এমএম অথবা সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ। এমন অবৈধ অস্ত্র রাজধানীতে পৌঁছালেই বিক্রি হয় দ্বিগুণ দামে। আর এসব অস্ত্র চাঁদাবাজি ও খুনখারাবিতে ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা। ২০১৪ সাল থেকে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এমন এক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা গত ৬ বছরে দুইশ’র বেশি অস্ত্র এনেছে রাজধানীতে।

গত বুধবার রাতে মিরপুর, দারুস সালাম ও গাবতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন-আকুল হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, আব্দুল আজিম, ফারুক হোসেন ও ফজলুর রহমান। তারা যশোরের বেনাপোল ও শার্শা এলাকার বাসিন্দা। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার, আটটি বিদেশি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগাজিন ও ৮টি গুলি উদ্ধার করে ডিবি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ডিবির গুলশান বিভাগ বিভিন্ন অপরাধীর কাছ থেকে বেশ কয়েকটি অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা তদন্তকালে জানা যায়, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ীর একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা যশোরের বেনাপোল থেকে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে। এ ছাড়া তারা দেশে অপরাধীদের কাছে অস্ত্র-গুলি সরবরাহ করছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে বেনাপোল এলাকার কে বা কারা এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়।’

‘তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে গোয়েন্দা (গুলশান) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমানের নেতৃত্বে বুধবার গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আন্তর্জাতিক অস্ত্র বেচাকেনা দলের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি নিয়ে অপরাধীদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রাইভেটকারযোগে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড হয়ে ঢাকায় ঢুকবে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি গুলশান বিভাগের তিনটি টিম দারুসসালাম থানা এলাকার দিয়াবাড়ীগামী রাস্তা, বেড়িবাঁধগামী রাস্তা ও কল্যাণপুরগামী রাস্তায় ওত পেতে থাকে।’

হাফিজ আক্তার জানান, এরপর রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে গাবতলী ব্রিজের ইউলুপ দিয়ে সন্দেহজনকভাবে একটি সিলভার রঙের প্রাইভেটকার দ্রুতগতিতে উত্তর দিকে অগ্রসর হলে দিয়াবাড়ী টিমকে রাস্তায় ব্যারিকেড দিতে বলা হয়। এ সময় অন্য টিমগুলোও প্রাইভেটকারটির পেছনে ধাওয়া করে। ডিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় রাস্তায় চলাচলরত গাড়ি দিয়ে দারুস সালাম থানাধীন বেড়িবাঁধ বড় বাজারের আক্তার হাজির মাংসের দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি করে।

ডিবি প্রধান জানান, জ্যামে আটকা পড়া গাড়িটিকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ঘিরে ফেললে প্রাইভেটকারটির চালক ও পেছনের সিটের একজন লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাদের ধরে ফেলা হয়। ডিবির অপর সদস্যরা স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় গাড়ির খোলা দরজা দিয়ে গাড়িতে অবস্থানরত অপর তিনজনকে ধরে ফেলেন।

এ সময় তাদের তল্লাশি করে আকুল হোসেনের কোমরের পেছনে প্যান্টে গোঁজা অবস্থায় এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল ও গলায় ঝুলিয়ে রাখা একটি হ্যান্ডব্যাগে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, আটটি খালি ম্যাগাজিন; আব্দুল আজিমের কোমরের পেছনে গোঁজা অবস্থায় এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল; ইলিয়াস হোসেনের কোমরের পেছনে প্যান্টে গোঁজা অবস্থায় এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল; অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনার সহযোগী মিলন হোসেন এবং গাড়িচালক ফজলুর রহমানকে একটি প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, গোয়েন্দা (গুলশান) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমানের নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. কামরুজ্জামান সরদারের তত্ত্বাবধানে এডিসি মাহবুবুল হক সজীবের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

ডিবি প্রধান বলেন, ‘চক্রটির মূলহোতা আকুল নিজে বা তার বিশ্বস্ত লোকজনের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেগুলো সরবরাহ করছিলেন। আকুল ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক অবৈধ অস্ত্র নিজে বিক্রি করেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘অস্ত্র চোরাচালানসহ চক্রের সদস্যরা তক্ষক প্রতারণা, সীমান্ত পিলার, সাপের বিষ, গোল্ড স্মাগলিং, প্রত্নতাত্ত্বিক মূর্তি, ইয়াবা ও আইস-মাদক কারবারেও জড়িত ছিল।’

ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘চক্রটি ভারত থেকে ৫০ হাজার টাকায় কেনা অস্ত্র বাংলাদেশে এনে বিক্রি করত ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায়। এসব অস্ত্র ভারত থেকে সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে আনা হতো। যেগুলো দিয়ে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। বিশেষ করে চাঁদাবাজির জন্য এসব অস্ত্র কেনা হতো বলে জানিয়েছেন চক্রের সদস্যরা।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads