রায়পুরায় বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রতীকী ছবি

সারা দেশ

রায়পুরায় বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

  • রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৫ জুন, ২০২০

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার  মির্জানগর পূপাড়া গ্রামে বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে  সাড়ে তিন বছর ধরে এক গৃহবধূকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মামুন মিয়ার (২৮) বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) রায়পুরা থানায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামুন উপজেলার মির্জানগর পশ্চিমপাড়ার গরুর ব্যবসায়ী সালাম মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, ওই গৃহবধূ উপজেলার মির্জানগর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত বজলু মিয়ার মেয়ে। তিনি নরসিংদীর ঘোড়াশালে জনতা জুটমিলের শ্রমিক। আট বছর আগে আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকার মৃত মিলন মিয়ার বাগপ্রতিবন্ধী ছেলে লিটন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এ দম্পতির সাত বছরে একটি পুত্র সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তার ওপর নির্যাতন চালাত। এভাবে বিয়ের সাড়ে চারবছর অতিবাহিত হয়। এরই মধ্যে রাজমিস্ত্রি মামুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ফোন আলাপ হয়। এক পর্যায়ে মামুন ওই গৃহবধূকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পরে মামুনের কথামতো সে তার বাকপ্রতিবন্ধী স্বামীকে ডিভোর্স দেয়। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টানা সাড়ে তিনবছর তাকে ধর্ষণ করে মামুন। সাম্প্রতিক মামুন তাদের মধ্যকার সর্ম্পকের কথা অস্বীকার যায়। এক সাপ্তাহ আগে পরিবারের পছন্দে এক পাত্রীকে বিয়ে করেন মামুন। এঘটনা পর ওই নারী আত্মহত্যার উদ্দেশ্য বিষপানে করেন। পরে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলেন। এ ঘটনায় মামুনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওই নারী বলেন, বিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে দিনে পর দিন আমাকে ধর্ষণ করেছে মামুন। এখন সে অন্য একটি মেয়ে বিয়ে করেছে। আমি এখন কি করব? আমার দুই কূলই গেল। এখন মরণ ছাড়া আমার আর অন্য কোন পথ নেই। 

অভিযুক্ত  মামুন বলেন, ওই মেয়ের বাড়ির লোকজন আমাকে ফাঁসানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। আমার সাথে ওই মেয়ের কোন সর্ম্পক নেই। আমি তাকে চিনি না।

এ ব্যাপারে মামুনের বোন আকলিমা বলেন, আমার ভাইকে তার এক বন্ধু ওই মেয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাঁরা জোর করে ভাইকে একটি ঘরে আটকে রাখেন। আটকের পর তারা লোকজন জড়ো করে ওই মেয়েকে বিয়ে করতে বলেন। পরে টাকা বিনিময়ে সেখান থেকে আমার ভাইকে ছাড়িয়ে আনি।

এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার সেকেন্ড অফিসার দেব দুলাল বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাক্ষেপে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads