রায়ে সন্তুষ্ট বনানী থানার সাবেক ওসি সালাউদ্দিনের পরিবার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

জাতীয়

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা

রায়ে সন্তুষ্ট বনানী থানার সাবেক ওসি সালাউদ্দিনের পরিবার

  • গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৭ নভেম্বর, ২০১৯

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় সাত আসামির ফাঁসির আদেশ দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে গোপালগঞ্জের সন্তান বনানী থানার সাবেক ওসি নিহত সালিউদ্দিন খানের পরিবারের সদস্যরা। এ রায়কে কেন্দ্র করে জেলায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বুধবার দুপুরে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এরপরই পরিবারসহ এলাকারবাসী সন্তোস প্রকাশ করেন।

গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ায় বাড়ীতে গিয়ে দেখা গেছে, এখন বাড়িতে আগের মত কোলাহল নেই । সবাই যার যার মত ব্যস্ত। তবে নিহত ওসি সালাউদ্দিনের স্ত্রী ও সন্তানেরা ঢাকায় থাকেন। বাড়ীতে ঢুকতেই পাওয়া গেলে ওসি সালাউদ্দিনের দুই ভাইকে।

এ সময় নিহত সালাউদ্দিন খানের বড় ভাই রাজিউদ্দিন খান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার দমন করতে গেলে জঙ্গীদের ছোড়া গ্রেনেড হামলায় আমাদের ভাই নিহত হন। আমরা ন্যায্য বিচারের পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা ভাই হত্যার বিচার পেলাম। ৭ জন আসামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আমরা এ রায়ে খুশি।

তিনি বলেন, এ রায়ে একজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। আমরা চাই তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে সরকার। সেই সঙ্গে উচ্চ আদালত এ রায় বহাল রাখবে।

এ সময় নিহত সালাউদ্দিন খানের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী খান, আমরা ভাই হারিয়েছি, আর তাকে পাব না। আমরা সুষ্ঠ বিচার পাওয়ার আশা ছিলাম। এ রায়ের মাধ্যমে আমাদের সে আশা পূরণ হয়েছে। আমরা চায় উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।

এ দিকে এ রায়কে কেন্দ্র করে জেলায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে আদালত চত্ত্বরে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় হয়। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিল।

শহরের ব্যাংকপাড়া নিবাসী ও এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মৃত আব্দুল মান্নান খানের ৭ ছেলে ও ৪ মেয়ে। ১১ ভাই বোনের মধ্যে ওসি সালাহউদ্দীন আহম্মেদ ছিলেন পঞ্চম। বাবার মুত্যুর পর পুরো পরিবারের দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন নিজ কাধে। তাই পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি ছিলেন বাবার সমতুল্য। পুরো পরিবারটিই তার ওপর ছিলো নির্ভরশীল ছিল। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের যাবতীয় খরচ নির্বাহ করতেন তিনি।

শুধু তাই নয় নিহত সালাহ উদ্দীন আহম্মেদ ছিলেন একজন চৌকষ পুলিশ অফিসার। সদা হাস্যউজ্জ্বল ও সদালাপি এ পুলিশ কর্মকর্তা মানুষের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসতেন সবার আগে। এলাকায় মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণে সহযোগিতা করতেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেড হামলায় নিহত হন বনানী থানার তৎকালিন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads