জাতীয়

রিজার্ভ কমেছে চার বিলিয়ন ডলার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ নভেম্বর, ২০২১

মাত্র আড়ই মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি ডলার। অথচ গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ গত আড়াই মাস ধরে রিজার্ভের নিম্নগতি অব্যাহত রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রপ্তানি আয় বাড়লেও অস্বাভাবিকভাবে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে, অন্যদিকে অস্বাভাবিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। যে কারণে ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, রপ্তানি আয় বাড়লেও অস্বাভাবিকভাবে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধাক্কা লেগেছে। যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের মতো বাড়ছে না। তবে রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ, তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ এখনো আছে। বর্তমানে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে। এটা দেশের অর্থনীতি যে শক্তিশালী তার ইঙ্গিত করে। অবশ্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এর আগে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় এই বছরের সেপ্টেম্বরে আমদানি বেড়েছে ৫০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে হঠাৎ রেমিট্যান্স প্রবাহে ছন্দপতন ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতা আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেও দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, অক্টোবর মাসে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, তা গত ১৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২০ সালের অক্টোবরে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। এই বছরের অক্টোবরে উল্টো নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর এই চার মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪৩ শতাংশের বেশি। অথচ এই অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) কোনো প্রবৃদ্ধি হয়নি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত চার মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। গত জুলাই থেকে অক্টোবর এই চার মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৭০৫ কোটি ৫১ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে পাঠিয়েছিলেন ৮৮১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ, গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবাসী আয় কমেছে ১৭৬ কোটি ডলার।

যদিও গত বছরের অক্টোবর মাসের তুলনায় এই বছরের অক্টোবরে রপ্তানি আয়ও বেড়েছে ৬০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর এই চার মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ইতিহাসে গত ২৪ আগস্ট প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে যায়। ৮ সেপ্টেম্বরে এই রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারে। সর্বশেষ ১৭ নভেম্বর এই রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নেমে আসে। গত বছরে মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে রিজার্ভে ৮ বার রেকর্ড হয়েছে।

২০২০ সালের ৩ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪ জুন সেই রিজার্ভ আরো বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই গত বছরের ৩০ জুন রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এর এক মাস পর ২৮ জুলাই রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। এর তিন সপ্তাহ পর ১৭ আগস্ট রিজার্ভ ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এরপর ২ সপ্তাহের ব্যবধানে ১ সেপ্টেম্বর তা ৩৯ বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করে। এর ৫ সপ্তাহ পর গত ৭ অক্টোবর তা ৪০ বিলিয়ন ডলার এবং এর তিন সপ্তাহ পর ২৮ অক্টোবর ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads