সারা দেশ

লক্ষ্মীপুরে পৃথক ২ মামলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রসহ আসামি ১০৬৬

  • ''
  • প্রকাশিত ১৬ অগাস্ট, ২০২৪

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী দু’জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় থানায় পৃথক দু’টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সকালে নিহত কলেজ শিক্ষার্থী আফনান হোসেনের মা নাছিমা আক্তার ও সাব্বির হোসনের বাবা আমির হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় পৃথক দু’টি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এসব মামলায় আসামি করা হয় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একে এম সালাহ উদ্দিন টিপু, পৌর মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চররুহিতা ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হাসান পলাশ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রকি ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ইউসুফ পাটওয়ারী, চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব, মান্দারী ইউপি চেয়ারম্যান সৌরভ হোসেন রুবেল পাটওয়ারী, বাংগাখাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, লাহারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল আলমসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১০৬৬ জন নেতাকর্মী।

পুলিশ জানায়, ৪টা আগস্ট সকালে শহরের বাগবাড়ি এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ছাত্র আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিয়ে মারধর করে। এরপর মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় মাদামব্রিজ এলাকা থেকে পাল্টা মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝুমুর সিনেমা হলের দিকে যেতে চাইলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এরপর আন্দোলনকারীদের মিছিল শহরের বাজারের দিকে দিয়ে তমিজ মার্কেট এলাকায় পৌঁছে।

এ সময় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন টিপু নিজ বাসভবনের ছাদ থেকে আন্দোলনকারীদের এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এতে কলেজ শিক্ষার্থী সাদ আল আফনান ও সাব্বির হোসেনসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। গুলিবিদ্ধ হয় কমপক্ষে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে সালাউদ্দিন টিপুরসহ দু’টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীর। এ সময় বাসার আগুন থেকে বাঁচতে লাফিয়ে পড়ার সময় যুবলীগের ৭ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্র-জনতা। এ ঘটনায় ওইদিন মারা যান ১১ জন।

এ ঘটনায় নিহত সাদ আল আফনানের মা নাছিমা আক্তার ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। অপর নিহত মো. সাব্বির হত্যা মামলায় একই ব্যক্তিদের ৯২ জনের নাম উল্লেখ করে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পৃথক আরও ১টি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সদর থানার ওসি মো. ইয়াছিন ফারুক মজুমদার বলেন, দু’টি হত্যা মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলরসহ ১০৬৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads