কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনে প্রচার-প্রচারণা শেষে ভোটের অপেক্ষায় ভোটাররা। ভোট যুদ্ধের মাঠে লাঙ্গলের দূর্গখ্যাত নীলফামারী-৪ আসনে ভোটাররা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কাঁচি প্রতিকের সূর উঠেছে ভোটারদের কন্ঠে কন্ঠে। এক রকম বলা চলে- লাঙ্গলের দূর্গে যেন কাঁচির হানা।
নীলফামারী-৪ আসনটি সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে রয়েছে ৪ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৭ জন ভোটার। আসনটির সৈয়দপুরে ১টি পৌরসভা, ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড নিয়ে ভোট কেন্দ্র ৯১টি রয়েছে। এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৩ শত ৪৮। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৮ হাজার ২ শত ৪৪ ও মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৭ হাজার ১ শত। এছাড়া এ উপজেলায় রয়েছে হিজড়া ভোটার ৪ জন। অপরদিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৭৮টি। এখানে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২লক্ষ ১০ হাজার ৭ শত ৩৯। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৫ হাজার ৬ শত ও মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লক্ষ ৫ হাজার ১ শত ৩৮। এ উপজেলায় রয়েছে হিজড়া ভোটার ১ জন।
নির্বাচনী এলাকার হাট-বাজার, অলি-গলি, চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা সর্বত্র ভোটের উৎসব দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার, অলি-গলিতে নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে চলছে ভোটের হিসাব নিকাশ। যেখানেই মানুষজন জমায়েত হচ্ছে সেখানেই চলছে ভোট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন। ভোটারদের হিসেব-নিকাশ আর কন্ঠে দেখা যাচ্ছে কাঁচির জয় সূর।
সরগরম ভোটের মাঠে ভোটারদের মতে এগিয়ে আছে জাপার পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া কাঁচি প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। তিনি ভোটের মাঠে দাপুটে অবস্থানে রয়েছেন। এ শিল্পপতির দান-খয়রাতসহ মানুষের পাশে থাকার বেশ সুনাম রয়েছে। এছাড়া রয়েছে তার ব্যক্তি ইমেজ। এ দু’টিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। তিনি কাঁচি মার্কায় ভোট চেয়েছেন। ভোটারদের একরকম মন জয় করে নিয়েছেন এ প্রার্থী। শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও রয়েছে তার খ্যাতি। এ আসনে কাঁচি প্রতিকের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভোটারদের মুখে মুখে শুধুই কাঁচি আর কাঁচি।
নতুন ও পুরাতন ভোটারদের মুখে পরিবর্তনের সূর শোনা যাচ্ছে। তাদের হিসাব নিকাশে সবার উপরে রয়েছে কাঁচি প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। এরপরের স্থানে রয়েছে ট্রাক প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোখছেদুল মোমিন। তারপরের স্থানে রয়েছে জাপা মনোনীত লাঙ্গল প্রতিকের আহসান আদেলুর রহমান আদেল। ভোটারদের এ হিসাব নিকাশ যদি সঠিক হয় তাহলে একরকম ধরে নেয়া যায় কালকে ভোটের ফলাফলে জয়ের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে কাঁচি প্রতিকের সিদ্দিকের।
ভোটারদের মতে- কাঁচি প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক তিন প্রার্থীর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। কাঁচি প্রতিকের সূর সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ভোটাররা কাঁচি প্রতিকের সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের জয়ের সমূহ সম্ভাবনা দেখছেন।
কাঁচি প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের ভোট পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতা শাকিল জানান-সাধারণ ভোটারদের যে অভূতপূর্ব সারা দেখছি তাতে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদি।
কাঁচি প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন- আমি যেখানেই যাচ্ছি সাধারণ ভোটারদের ভালবাসা পাচ্ছি। আমি সাধারণ মানুষের সাথে ছিলাম, আছি ও সারা জীবন থাকতে চাই। বাঁকি জীবনটি মানুষের সেবা করতে চাই। আমি এমপি নির্বাচিত হলে কিশোরগঞ্জে শিল্পকারখানা স্থাপন, বেকারত্ব দূরকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কিশোরগঞ্জে একটি পৌরসভায় রুপান্তর করবো। এছাড়া শিক্ষানগরী সৈয়দপুরের মান উন্নত করতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজসহ সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ তরান্বিত করবো। কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুরে পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন করা হবে। যাতে এ আসনটি একটি স্মার্ট আসনে রুপান্তরিত হয়। এ প্রার্থী মনে কওে আগামী কাল (৭ জানুয়ারি) ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবে। আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব ইনশাআল্লাহ।
এ আসনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন তারা হল জাতীয় পার্টি মনোনীত আহসান আদেলুর রহমান আদেল (প্রতিক লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক (প্রতিক কাঁচি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোখছেদুল মোমিন (প্রতিক ট্রাক), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন মনোনীত এম সাজেদুল করিম (প্রতিক নোঙ্গর), তৃণমুল বিএনপি মনোনীত ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের (সোনালী আঁশ), জাসদ মনোনীত আজিজুল হক (মশাল) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি মনোনীত আব্দুল হাই সরকার (আম)।





