টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার লাঙ্গুলিয়া নদীর উপর কাঠের ব্রীজটি যেন মরণ ফাঁদ। ১০ বছর আগে কাঠ ও পেরেক লোহা ব্যবহার করে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। যা খাটরা কাঠের ব্রীজ নামেই পরিচিত। ব্রীজটি নির্মানে বাসাইল উপজেলার উত্তর পার্শ্বে সীমান্ত ও কালিহাতী উপজেলার দক্ষিণ পার্শ্বে সীমান্তের জনসাধরনের সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে জনসাধারনের চলাচলের দূর্ভোগ লাঘবে নির্মিত হয় ব্রীজটি। তৎকালিন স্থানীয় এমপি প্রয়াত শওকত মোমেন শাজাহান দেড় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে কাঠের ব্রীজটি নির্মাণ করে দেন। বর্তমানে এটির অবস্থা একেবারে নড়বড়ে। চলাচলের ক্ষেত্রে এটি যেন ভয়ঙ্কর মরণ ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে। ব্রীজের কাঠের খুঁটি ও পাটাতন পঁচে যাওয়ায় বাঁশের মাচাল দিয়ে জোড়াতালি লাগানো হয়েছে। পারাপরের জন্য একসঙ্গে কয়েকজন লোক উঠলেই পুরো ব্রীজটিই লড়বড় করে। নিছক প্রয়োজনের তাকিদেই জীবন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে দুই ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। এটি ভেঙ্গে গিয়ে যে কোন সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
বাসাইল উপজেলার দুই ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কালিহাতি উপজেলার বল্লা, রামপুর, কাজীবাড়ি, কামান্নাসহ বেশকিছু গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র সেতু এটি।
এ ছাড়া ও এলাকার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কয়েকটি ব্যাংকের শাখাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার লোকজনের কৃষিপন্য প্রত্যহিক পরাপারে এই ঝরাঝীর্ণ কাঠের ব্রীজটি একমাত্র অবলম্বন।
কালিহাতি উপজেলার চাদর বিক্রেতা মো. শাহীন মিয়া বলেন, ৭-৮ বছর ধরে এই এলাকায় চাদর ফেরি করি। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। আমি নিজেও পাটাতন ভেঙে পড়ে গিয়েছিলাম ভাগ্য ভালো বেঁচে গেছি।
ভ্যানচালক আ. মালেক ও মীর স্বপন বলেন, সতেরো বছর ধরে এলাকায় ভ্যান চালাই। বছরে লাকড়িসহ আমাদের ভ্যান কয়েকবার উল্টে দুর্ঘনার শিকার হয়েছি।
লুৎফাশান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাথী আক্তার ও লুবনা আক্তার বলেন, এমন কোনো সপ্তাহ নেই যে, এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার না হয়। এ ব্রীজটি নির্মান করা অতি জরুরি হয়ে উঠেছে।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল জলিল বলেন, এখানে ৮০ মিটার একটি ব্রীজ নির্মাণে প্রাথমিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের ডিও লেটারসহ ব্রীজটির গুরুত্বারোপ করে সকল তথ্যাদি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।
বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, ২০১২ সালে অস্থায়ী চলাচলের জন্য টিআর-কাবিখা’র প্রকল্পের মাধ্যমে একটি কাঠের ব্রীজ করা হয়। বর্তমানে কাঠের ব্রীজটি ভেঙ্গে গিয়ে মানুষের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। গত বছরের বন্যা পরবর্তী প্রকল্পে এখানে একটি ব্রীজের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম শেষে ব্রীজের নির্মানের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।





