সারা দেশ

লালমনিরহাটের তিস্তায় জাবির জেইউ সলিটারিটি ও 'ইচ্ছা' র কম্বল বিতরণ

  • জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের JU Solidarity & সামাজিক সংগঠন Inspire Care & Cultivate Human Aid-ICCHA/ ইচ্ছা’র উদ্যোগে লালমনিরহাটের তিস্তা এলাকায় কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (০২.০২.২১) রাতে জেলা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার চর, গড্ডিমারী, হাটখোলা, সিন্ধুনা ও পশ্চিম সাড়ডুবী এলাকার সুবিধাবঞ্চিত, অসহায়, হতদরিদ্র ও বিধবা বয়স্কদের মধ্যে প্রায় অর্ধ শতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

শীতবস্ত্র বিতরণ প্রসঙ্গে 'জেইউ সলিটারিটির' অন্যতম কর্ণধার আকবর উদ্দিন আহমেদ মিলন (জাবি ৯ম ব্যাচ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ) বলেন, প্রতিবছর উত্তরবঙ্গে শীতের প্রকোপ বাড়ে। এবছরও তীব্রতা দেখছি। আমাদের সমাজসেবামূলক কাজের অংশ হিসাবে বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ত্রাণ কর্মসূচীর ধারাবাহিকতায়
JU Solidarity ও ICCHA ‘র উদ্যোগে লালমনিরহাটে শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে কিছু কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় আমাদের এ মানবসেবা অব্যাহত থাকবে। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

সামাজিক সংগঠন ইচ্ছা’র সভাপতি নুরুজ্জামান শুভ (জাবি-৪৫ ব্যাচ, ইতিহাস) বলেন, গত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এই বছর ও আমরা দেশের শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদেরকে যারা আর্থিকভাবে সহযোগীতা করেছেন তাদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ইচ্ছা দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করে যাবে।

সামাজিক সংগঠন ইচ্ছা’র সহ সভাপতি এস এন সোহেল রানা (জাবি-৪৫ ব্যাচ, ইতিহাস) বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ শীতে কষ্ট করছে। আমি আপনি যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী যদি এগিয়ে আসি তাহলে এইসব শীতার্ত মানুষগুলোর কষ্ট কিছুটা হলেও দূর হবে ।

কম্বল পেয়ে তিস্তার চরের বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী বলেন, উপরওয়ালা ওমাক ভালো থুক, যারা হামার দুর্দিনে পাশ'ত খাড়া হইছে (দাঁড়াইছে)।

পশ্চিম সাড়ডুবী গ্রামের বিধবা আবিয়া বেগম অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, মুই আজই গর্বিত যে, হামার জন্য মেলা চিন্তা করে ভার্সিটির ছাওয়ালগুলা। ওমা হামার প্রতি তাকাইছে, আল্লাহ্ পাক যেন ওমার দিকে তাকায়।

কম্বল বিতরণকালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'ইচ্ছা' র লালমনিরহাট জেলার সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত ছাত্র মো. শাহিনুর রহমান শাহিন ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক সদস্য সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচীর বিষয়ে শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, আমি আজ গর্বিত। আমার ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের সহায়তায় এলাকার গরীব-দুঃখী ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে কিছু শীতবস্ত্র এনে দিতে পেরে। এবছর শীতের প্রকোপ এই জেলায় অনেক বেশি। যা কম্বল পেয়েছি তা প্রয়োজনের তুলনার যৎসামান্য। যদি আরও কিছু মানুষের গায়ে এই শীতবস্ত্র জড়িয়ে দিতে পারতাম নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করতাম। ভবিষ্যতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় বন্যাপ্লাবিত এলাকায় ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির মতো সেবামূলক কার্যক্রমে পাশে থাকবো।

উল্লেখ্য, JU Solidarity & ইচ্ছা’র যৌথ উদ্যোগে ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ গাইবান্ধার ফুলছড়িতে, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ০৪ জানুয়ারি ২০২১ ঠাকুরগাঁও, ৪ জানুয়ারি ২০২১ পঞ্চগড় এবং ইচ্ছা ২০১৮ সালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, ২০২০ সালে দিনাজপুরের খানসামায় শীতবস্ত্র বিতরণ করেছিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads