নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করছি। তারা যেন কারো উস্কানিতে কান না দেয়। সবাইকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে, নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাবার অনুরোধ করছি। কোমলমতি শিশুরা যেন কোনো অপপ্রচারে কান না দেয়, বিভ্রান্ত না হয়। আমরা তাদের সব দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সড়ক ব্যবস্থাপনায় আগে অনিয়ম ছিল। আমরা সেসব অনিয়ম অনেক দূর করেছি। উল্টো পথে চলা অনেক প্রভাবশালীর গাড়িও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটপাতে গাড়ি চালানো বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের আন্তরিকতা থাকা স্বত্ত্বেও নাগরিকদের অসেচতনতার কারণে পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বিলম্বিত হচ্ছে।’
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ি চেকিংয়ের কারণে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা গাড়ি চেকিংয়ের নামে যা করছে তা কাম্য নয়। দুর্ভোগ হচ্ছে বিশেষ করে যারা হজ যাত্রী এবং রোগীদের। তাদের গাড়ি আটকানোর কারণে তারা বিপদে পড়ছেন। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবো, যেন তারা স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যায়। দারা যেন ঘরে ফিরে যায়। পর্যায়ক্রমে দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিভাককদেরও অনুরোধ করবো, আপনারা আপনাদের সন্তানদের ঘরে নিয়ে যান। সঙ্গে শিক্ষকদেরও অনুরোধ করবো তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। আর পরিবহনে যে সমস্যা তা তো রাতারাতি সমাধান হবে না। আমরা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’
দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে যে গাড়িটি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তা জব্দ করেছি। বিআরটিএ ইতোমধ্যে এই কোম্পানির রুট পারমিট বাতিল করেছে। এই গাড়ির চালক ৭ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছিল। আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করার জন্য ইতোমধ্যে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় দায়ীরা যেন সর্বোচ্চ শাস্তি পায় আমরা সেই ব্যবস্থা করবো।’
প্রসঙ্গত, গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ ও ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭) মিরপুরের দিক থেকে বিমানবন্দর সড়কের দিকে আসার পথে ফ্লাইওভারেই একে অপরকে ওভারটেক করে পাল্লা দিয়ে নিচে নামছিল। ফ্লাইওভারের গোড়ায় রমিজ উদ্দিন কলেজের কয়েক শিক্ষার্থী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল, কয়েকজন হেঁটে যাচ্ছিল। জাবালে নূর বাসে ওঠার সময় অপর গাড়িটি বামে ঢুকে চাপা দেয় শিক্ষার্থীদের। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল করিম। আহত হয় সজীব, আরিসাসহ ১০-১২ শিক্ষার্থী। দুই সহপাঠীর মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ওই দিন রাতেই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর।





