দেশে ক্রমান্বয়ে গ্যাসসংকট প্রকট হয়ে উঠছে। আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই চলছে সংকট। বাসাবাড়িতে ঠিকমতো চুলা জ্বলছে না। শিল্পকারখানায় উৎপাদনের গতি কমে গেছে। গ্যাসের চাপ এভাবে কম থাকলে কারখানাগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে শিল্প খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি ব্যাংকে ঋণগ্রস্ত হয়ে তাদের প্রকল্প বন্ধ করে দেয়ার আশঙ্কা অনেক শিল্প উদ্যোক্তার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস ঘাটতির কারণে করোনার পর ঘুরে দাঁড়াতে থাকা অর্থনীতিতে বাধা পড়ছে। একই সঙ্গে উৎপাদনের চাকা ধীর ও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া নিজেদের গ্যাস অনুসন্ধান না করে আমদানি নির্ভরতার মাশুল গুনতে হচ্ছে। আর দিনশেষে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তবে গ্যাস উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানান, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সবধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কয়েকটি গ্যাস কূপের ওয়ার্কওভার (সংস্কার) শেষ হওয়ার পথে। সেগুলোতে উৎপাদন শুরু হলে কমবে গ্যাসসংকট।
প্রায় আড়াই কোটি মানুষের বসবাস তিলোত্তমা নগরী ঢাকায়। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অন্যদিকে দৈনন্দিন নানা ভোগান্তির মধ্যেও এখন নতুন করে গ্যাসের সংকটে বিপর্যস্ত রাজধানীবাসী। প্রায় দুই যুগ ধরে প্রতি বছরই শীতকালে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে তীব্র হয়ে ওঠে এ সংকট। বর্তমানে পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, রাজধানীর প্রায় সব বাসায় ভোগান্তি দিয়ে শুরু হচ্ছে প্রতিটি সকাল। যদিও গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সপ্তাহে ৪ ঘণ্টা করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা শুরু করেছে সরকার। এতেও চলমান সংকটের সমাধান হয়নি।
আর গ্যাস সংকটের কারণে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং কারখানাগুলোর সংকট চরম আকার নিয়েছে। বিশেষ করে সাভার, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি শিল্প এলাকায় চলছে তীব্র গ্যাসসংকট। ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন কর্মকাণ্ড। এতে ঠিক সময়ে পণ্য দিতে না পারার ঝুঁকিতে থাকা রপ্তানিকারকরা ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, গ্যাসসংকটের স্থায়ী সমাধান দরকার। ঘাটতি দ্রুত মেটানো না গেলে অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই সংকটের দ্রুত সমাধান চান তারা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের বাসিন্দা এক গৃহবধূ বিউটি আক্তার বলেন, শীত মৌসুমের শুরু থেকে সারা দিনের রান্না সকাল ১০টার মধ্যে শেষ করতে হয়। তা না হলে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। শীতের শুরু থেকেই এ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সকালে নাশতা তৈরি করতে পারলেও দুপুরের রান্না শেষ করতে পারেননি। এ জন্য দুপুর ২টার পর গ্যাস আসলে রান্না চুলায় বসালে দুপুরের খাবার খেতে হয় সন্ধ্যার দিকে।
ধানমন্ডি এলাকার ফাহিমা জাহান বলেন, সপ্তাহের কর্মদিনগুলোতে খাবার রান্না করতে হচ্ছে রাতে। এভাবেই খাওয়ার রান্না করার কাজটি করতে হচ্ছে। বিগত ২২/২৩ দিন ধরে এভাবেই বাড়তি চাপ নিয়ে চলতে হচ্ছে আমাদের।
এমন চিত্র রাজধানীজুড়ে। শীত মৌসুমে ১০টার পর থেকেই লাইনের গ্যাস একদম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন রাজধানীবাসী। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পাইকপাড়া, রামপুরা, হাতিরপুল, ধানমন্ডিসহ শহরের অধিকাংশ এলাকার বাসায় গ্যাসের সমস্যা দেখা গেছে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুনধারা নামের একটি সংগঠন বর্তমান গ্যাসসংকট ও দাম বাড়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে। গ্যাসের মজুত ও সংকট নিরসনে মিটার রিডিং সিস্টেম যুক্ত করার আহ্বান জানান বক্তারা। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধেরও দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে গ্যাসসংকটের ব্যাপারে শিল্প মালিকদের অভিযোগ, সংকট সমাধান চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার ধরনা দিলেও কোনো সমাধান মিলছে না। কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে সক্ষমতার মাত্র ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ ১৫ পিএসআই থাকার কথা। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে আড়াই থেকে ৩ পিএসআই। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পড়তে হচ্ছে আর্থিক লোকসানের মুখে। এমন বাস্তবতায় কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন অনেক শিল্প মালিক।
নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্প নগরীর অন্যতম বড় পোশাক কারখানা এমএস ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড। কারখানাটিতে ডাইং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং প্রত্যেকটি সেকশনের উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ১০০ টন। অথচ গেল এক মাস ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে উৎপাদন হচ্ছে ৩০ টনেরও কম।
কারখানার নির্বাহী পরিচালক জনি বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে একদমই গ্যাস নেই। সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে গ্যাস একদমই চলে যায়, অধিকাংশ মেশিন বন্ধ থাকে। ফতুল্লা ডাইং কাখানায় তিনটি বয়লার মধ্যে কোনোরকমে চালু রাখা হয়েছে একটি বয়লার। গ্যাসের চাপ ১০ পিএসআই থাকার কথা থাকলেও দিনের বেলায় বেশিরভাগ সময়ই চাপ থাকে ৫ পিএসআইয়ের কম।
ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড কেলেন্ডারিং মিলস লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক তুষার বলেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অধিকাংশ সময় ৩ থেকে ৫ এর মধ্যে থাকে। কারখানাটির পরিচালক মিনহাজুল হক বলেন, এ সমস্যার কারণে কোয়ালিটিতে সমস্যা হয়। কাপড়টা আবার প্রসেস করতে হয়। ফলে কাপড়টা সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয় না। নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি জানান, এত দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সংকটের মুখোমুখি হতে হয়নি কখনো। বারবার ধরনা দিয়েও মিলছে না সমাধান।
বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই অবস্থার যদি সমাধান না হয় তাহলে খুব দ্রুতই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে, রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে, ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে যাবে। অবৈধ সংযোগগুলো যদি বিচ্ছিন্ন করা যায়, সরবরাহ লাইনে আমদানিকৃত এলএনজি যদি খুব দ্রুত নিশ্চিত করা যায় তাহলে আমরা এই সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারব। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, বয়লার ছাড়া তো কোনো প্রসেসিং হয় না, সেখানে ডাইংয়ের কেমিক্যাল হয়। আমি কেমিক্যাল মিক্সড করে বয়লার স্টার্ট দিলাম, মেশিন চলছে কিন্তু হঠাৎ বয়লার থেকে স্ট্রিম বন্ধ হয়ে গেল গ্যাস না থাকার কারণে। ডাইংয়ের এই পুরো প্রসেসটা ফেলে দিতে হবে।
আলী খোকন আরো বলেন, এই শিল্পটা যদি মরে যায় বা না টিকে তাহলে কি আমাদের টিকে থাকা সম্ভব? প্রতিদিন আমাদের রপ্তানি খাতে সুতার প্রয়োজন হলো ৮ থেকে ১২ মিলিয়ন কেজি। এই পরিমাণ সুতা কি প্রতিদিন আমদানি করে এক্সপোর্ট করা সম্ভব হতো? সরকারের কাজ হলো ব্যবসায়ীদের পলিসি সাপোর্ট দেওয়া, শিল্পের বিপ্লব ঘটানো।
লিটল স্টার গ্রুপের মালিকানাধীন সাভারের লিটল স্টার স্পিনিং মিলস লিমিটেডের অনুমোদিত গ্যাসের প্রেশার ১০ পিএসআই হলেও দিনের বেলায় বেশিরভাগ সময়ই তা ২ থেকে ৩ পিএসআই মধ্যে থাকে। গ্যাসসংকটের কারনে উৎপাদন বন্ধ রাখা, পণ্যের মান খারাপ হওয়া ও দামি মেশিনারির ক্ষতি হওয়াসহ গত চার বছরে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার উৎপাদন লোকসান হয়েছে এই কোম্পানির। দুই সপ্তাহ আগেই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে সমাধান চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। এছাড়াও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর কাছে চিঠি পাঠিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন। লিটল স্টার স্পিনিং মিলস লিমিটেড খোরশেদ আলম বলেন, আমরা আর পারছি না। সম্ভবত কারখানাটি বন্ধই করে দিতে হবে।
আবেদ টেক্সটাইল প্রসেসিং মিলস লিমিটেডের একজন পরিচালক ও বিটিএমএর ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে দুটি ইউনিটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইউনিট প্রায় বন্ধই রাখতে হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে দৈনিক ৪৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ২৫০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দুই-তিন বছর ধরে দৈনিক ৪১০-৪৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ৩১০-৩৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। অথচ গত ৯ জানুয়ারি ২৫৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গত ১৮ নভেম্বর সামিটের এলএনজি টার্মিনালের মুরিং ছিঁড়ে যায়। এতে দৈনিক প্রায় ৪০-৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে কূপ সংস্কারের জন্য প্রতিদিন ৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্যাসের বিদ্যমান সংকটের তীব্রতা চলতি জানুয়ারিতে কমছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উৎপাদন-বিনিয়োগ যে হারে বেড়েছে, সেই হারে স্থানীয় উৎপাদন বা অন্য দেশ থেকে আমদানি করায় দেশে গ্যাসের প্রমাণিত ও সম্ভাব্য মজুত কমে এখন প্রায় ১০ টিসিএফে ঠেকেছে। এলএনজি আমদানি শুরুর পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে মনে করা হলেও তা হয়নি। গত দুই-তিন বছর ধরে চাহিদার চেয়ে জোগানের ঘাটতি ৮০-১০০ কোটি ঘনফুটের সঙ্গে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত নিরুপায় হয়ে মানিয়ে নিলেও এখনকার প্রায় ১৮০-১৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সংকটে বিপাকে পড়েছেন দেশবাসী। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় গত জুন মাস থেকে এলএনজি আমদানি কম হচ্ছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও কমেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, যেসব উৎপাদন আটকে আছে, নতুনভাবে উৎপাদন শুরু করতে চাচ্ছে সেগুলোকে দ্রুত উৎপাদনে নিয়ে আসতে হবে। এ কাজটা করতে সদিচ্ছা ও সাহস দরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের যে প্রশাসন, তাতে এ দুটোরই অভাব আমরা লক্ষ্য করতে থাকি।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ। আমাদের বাণিজ্যিক ও নীতিগত আচরণ-চর্চার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আসছে না। উৎপাদন প্রক্রািয় দুর্বলতা ও নানা অনিয়ম অসহযোগিতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনীহা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের মূল্য আগের মতো সস্তা নেই। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে গ্যাস-বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবারাহ ও মূল্য সহনশীল রাখতে হবে। তবে তার আগে প্রয়োজন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের নিশ্চয়তা। এটি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। আর এ পরিস্থিতি এবং আচরণ-চর্চার উন্নতি না হলে বিদেশি বিনিয়োগেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব যে গ্যাস রয়েছে, তার বড় একটি অংশ সরকার বিদ্যুৎ ও সার শিল্পে ব্যবহার করে। ফলে আবাসিক ও বেসরকারি খাতে যে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে, সেটা মেটাতে হচ্ছে বেশি দামে আমদানি করা গ্যাস দিয়ে।
গ্যাসের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর গুরুত্ব দিয়ে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে শিল্প উৎপাদন বাড়ছে। এজন্য যে পরিমাণ গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চয়তা থাকা দরকার তা নেই। বিদ্যমান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে হতাশা-ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একপর্যায়ে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। কিন্তু দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও তা কখনো ৭৫-৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি যায়নি। বর্তমানে তা ৬০-৬৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। আবার আরো এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি নেই। সমুদ্রভাগের পুরোটা এবং স্থলভাগের বেশ কিছু স্থানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি বেশ বড় আশঙ্কা তৈরি করছে।
পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, সামিট এফএসআরইউর ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন এখনো মেরামত না হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো এক মাস সময় লাগবে।
জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে গ্যাসের মজুত বাড়াতে সম্ভাব্য সবই করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় খোলা বাজার থেকে আমদানি স্থগিত করা হয়েছিল। তবে আবারও আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি মাসেই তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এর অনুমোদন দিয়েছেন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ কমে যায়। ফলে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের নিম্নচাপ লক্ষ করা গেছে। আশা করছি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এফএসআরইউর ক্ষতি মেরামত করা হবে এবং আমরা ওই মাসের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ করতে পারব।





