গ্রামের মানুষ হনু পাগলী বলেই ডাকে। ১২ বছর বয়সেই আচমকা পাগলামি শুরু করেন হনু (হনুফা আক্তার)। সেই থেকেই কিছু দিন ভাল ত আবার পাগলামি বাড়ে তার। মন চাইলেই যাকে তাকে কামড়ে দেয় সে। ভয়ে ভয়ে থাকে শিশুসহ আশপাশের প্রতিবেশিরা। পরে মানসিক অবস্থা একটু ভাল হলে পাশের গ্রামের বৃদ্ধের সাথে বিয়ে দেয় হনুফা আক্তার ওরফে হনু পাগলীকে। এমনি করে কথাগুলো বলছিলেন মানসিক রোগী হনুফার বড় ভাই সিরাজ উদ্দীন মিজি।
হনুফার বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের বেজপাড়া আমহাটি গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত রুস্তম আলী মিজির ছোট মেয়ে।
গত ১৮ নভেম্বর শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন মানসিক প্রতিবন্ধী হনুফা আক্তার। পরে কোনো স্বজনের খোঁজ খবর না পেয়ে হাসপাতাল উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। প্রশাসনের সহায়তায় স¦জনদের খোঁজে বের করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোরে হালকা কুয়াশার মধ্যেই শ্রীপুর উপজেলা গেইটের সামনে পড়ে কাতরাচ্ছিল এ নারী। পরে বেশ কয়েক অটো চালক কাছে গিয়ে দেখে নারীর বাচ্ছা প্রসবের যন্ত্রনায় ছটফট করছে। এ সময় তাঁর সাথে কেউ ছিলনা। এ দেখে রেহেনা নামের এক নারী এগিয়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পৌঁছে দেয়। পরে স্বাভাবিক ভাবেই হাসপাতালে পুত্র সন্তান প্রসব করে ওই নারী। সেই থেকে এখনো হাসপাতালেই আছে মা ও শিশুটি।
হনুফার বড় ভাই সিরাজ উদ্দীন মিজি জানান, আমাদের ৫ ভাই ৪ বোনের সংসার ছিল। হনু (হনুফা) সবার ছোট। আমাদের এক ভাই মারা গেছে। বাবা সহায় সম্পদ বেঁচে এ বোনকে চিকিৎসা করিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পরে আমাদের সংবারে দারিদ্রতা আরো বেড়ে যায়। ভাইয়েরা সবাই দিনমুজরি করে সংসার চালাই। তাঁকে (হনুফা) পাশের গ্রামে বিয়ে দিয়েছিলাম। ওই সংসারে খুশি নামের একটি মেয়ে সন্তান হয়েছিল। ওর স্বামী মারা গেলে বোন ও ভাগনিকে আমাদের বাড়িতেই নিয়ে রেখেছিলাম। খুশি (ভাগনি) এখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। আমাদের পরিবারেই থাকে সে। তিনি আরো বলেন এক দিন বাড়ি ফাঁকা পেয়ে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয় হনু। আমরাও অনেক খোঁজ খবর করেছি, পাইনি হনুকে।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লক্সের সেবিকা (নার্স) ফারজানা শম্পা জানান, কোনো জটিলতা ছাড়াই সহজ ডেলিভারি (প্রসব) করে পুত্র সন্তান জন্মদেয় হনুফা। সে একটু পাগলামী করে মাঝে মধ্যেই। খবর পেয়ে ওই দিনই হাসপাতালে ছুটে আসেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) এমডি শামসুল আরেফিন। এ সময় প্রসতি মা ও সন্তানের খোঁজ খবর নেন,আর্থিক সহায়তাও করেন। তিনি জানান, মা নিজেই ছেলের নাম রেখেছে ইব্রাহীম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মইনুল হক খান জানান, মা ও সন্তান সুস্থ আছেন। নিয়ম করেই মায়ের দুধ পান করছে শিশুটি। হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরিফীন বলেন নাটোরের ইউএনওর সহায়তায় হনুফার স¦জনদের খোঁজ মিলেছে। পরে আজ সকালে তাঁর ভাইসহ অভিভাকর আসে শ্রীপুরে। পরে বিকালে তাঁদের কাছে মানসিক প্রতিবন্ধী মাসহ শিশুকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা নিতান্তই গরীব। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতেও সহযোগিতা পাবে ওই অসহায় নারীর পরিবার।





