আগামী ১ নভেম্বর থেকে দুবলার চরে শুরু হচ্ছে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ মৌসুম। এ মৌসুম চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। তাই এই মৌসুমকে ঘিরে বঙ্গোপসাগর পাড়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে যেতে শুরু করেছেন মোংলাসহ উপকূলের জেলে-মহাজনরা। বন বিভাগের কাছ থেকে পাস নিয়ে এ সকল জেলেরা গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে সমুদ্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করছেন। আবার কেউ কেউ গত রাতেই পাড়ি জমিয়েছেন দুবলার উদ্দেশে। এখন চরে গিয়ে জেলেরা তাদের থাকার ঘর, মাছ শুকানো মাচা ও মাছ সংরক্ষণের গোলা তৈরি করবেন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে তারা সাগরে মাছ ধরতে নামবেন। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাছাই করে শুঁটকি তৈরি করবেন জেলেরা।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, এবারের শুঁটকি মৌসুমে দুবলার চরে জেলেদের জন্য ৯৮৫টি ঘর ও ৬৬টি ডিপোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মৌসুমজুড়ে দুবলার চরে প্রায় ১০ হাজার জেলের সমাগম থাকবে। তিনি বলেন, ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ শুটকি মৌসুম চলবে। তিনি আরো বলেন, গত শুঁটকির মৌসুমে দুবলার চর থেকে বন বিভাগের রাজস্ব আদায় হয়েছিল তিন কোটি ২২ লাখ টাকা। এবারো আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সমপরিমাণ কিংবা তার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক জালাল শেখ বলেন, এবার দুবলার চরে শুঁটকি করতে মোংলার আড়াই থেকে তিনশ ট্রলার যাচ্ছে। ঘর-মাচা করতে ওইসব ট্রলারে জেলেরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যাবে। বন বিভাগের কাছ থেকে পাশ নিয়ে গত মঙ্গলবার থেকে তারা সাগরে যেতে শুরু করছেনন।
দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের নেতা কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনে এখন আর দস্যুতার ভয় নেই। তাই অনেকটা স্বস্তি নিয়েই সাগরে যাবেন জেলেরা। আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভের পাল্লা ভারি করেই মৌসুম শেষে বাড়িতে ফিরতে পারবেন উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার জেলে-মহাজনরা।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে এবারও উপকূলের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার জেলে সমবেত হবেন দুবলার চরে। এ মৌসুমেও দুবলার চরে যাচ্ছে প্রায় দেড় হাজার মাছ ধরার ট্রলার। ট্রলার নিয়ে গভীর সাগর থেকে আহরিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাছাই করে শুঁটকি করবেন তারা।





