এক সময় জমিগুলো অনাবাদি ছিল। পতিত জমিতে গরু চড়াত রাখালরা। তবে সে সব পতিত জমি এখন সবুজের সমারোহ। কচি লকলকে সবুজের নদী হয়ে পড়েছে অব্যবহৃত পতিত জমির বুক জুড়ে। সে সব পতিত জমিতে গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস চাষ করছে খামারিরা। দিন দিনই এ উন্নত জাতের ঘাস চাষে আগ্রহী হচ্ছে গবাদি পশুর খামারিরা। এ দিকে ঝুঁকছে বেকার নারী পুরুষরাও। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার খামারি ও কৃষকরা এখন প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস চাষ করে হচ্ছে স্বাবলম্বী। ২৫০ চাষি ও খামারি জড়িয়ে আছেন এ ঘাস চাষে।
খামারি ও কৃষকরা জানান, এ উপজেলায় এখন অনেক প্রান্তিক গরুর খামার গড়ে উঠেছে। সে সব খামারে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে খড় ভুষিই আর সামান্য সবুজ ঘাসই ছিল ভরসা। তবে এখন অনেক কৃষক তাদের পতিত জমির ঘাস চাষ করেছেন। এতে সহজেই গবাদি পশুর খাদ্য চাহিদা পূরণ হচ্ছে। খামারিরাও কম খরচে পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবহার করছে তাদের খামারে। সকল খামারিদের কাছে এ ঘাসের উপকারিতা তুলে ধরে বিভিন্ন সভা সেমিনার করেছে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস। খামারিদের বীজ দিয়েও সহায়তা করে প্রাণী সম্পদ অফিস।
নারী খামারি রিপা আকতার বলেন, ৫ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ শুরু করেছি। নিজের গরুর খামারের খাদ্যের চাহিদা পুরন করছি নিজের ক্ষেতে উৎপাদিত উন্নত নেপিয়ার ঘাস দিয়ে।
ঘাস চাষি হুমায়ূন কবির জানান, তার ৩ বিঘা জমিতে উন্নত নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষ করেছেন। তিনিও ঘাসগুলো নিজের গরুর খামারে কাজে লাগাচ্ছেন। এ ছাড়া ওই গ্রামের আরো অনেকেই নিজের পতিত জমিতে ঘাস চাষ করছেন। অনেকে আবার এ ঘাস অন্য ছোট ছোট খামারে বিক্রিও করছে। তাতে তাঁদের আর্থনৈতিক সুবিধাও বেড়েছে। তিনি বলেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে প্রথমে বীজ নিয়ে চাষ শুরু করি। এখন নিজের ক্ষেতেই উৎপাদন হচ্ছে ঘাসের বীজ।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সুত্র জানান, গরুর স্বাস্থ্যের জন্য উত্তম খাবার হচ্ছে উন্নত নেপিয়ার ঘাস। এ নেপিয়ার পাক চং-১ জাতের ঘাস গরুর খাবারের ৬টি উপাদানের সুষম চাহিদা পূরণ করে। অন্যান্য দানাদার খাবার গরুকে বেশি খাওয়ালে তাতে সব খাদ্য গুণ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া খাদ্য হিসাবে কেবল ঘাস দিলে গরুর পরিপাক ব্যবস্থা ভালো থাকে। গরুর পুরো পাচক প্রক্রিয়া ঘাসের জন্যই মূলত তৈরি।
সূত্র আরো জানায়, এ জাতের ঘাস রোপনের ৩ মাসের মাথায় কাটার উপযোগী হয়ে যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে একই গোছা (গোড়া) থেকে চারা গজায়। সে ক্ষেত্রে ৪৫ দিনের মধ্যে কাটার উপযোগী হয়। একটি গোছা থেকে ১২-১৫ কেজি ঘাস পাওয়া যায়। প্রতিদিন ১৫-১৬ কেজি ঘাস প্রয়োজন হয় একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গরুর। একবার রোপন করলে ৪ বছর ধরে অনবরত ঘাস পাওয়া যায় ওই ক্ষেতে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল জলিল জানান, শ্রীপুরের অনেক খামারি এখন এই ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ঘাসগুলো উপকারিতা জেনে তাঁদের দেখে অন্যরাও নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন অনেকক অনাবাদি পতিত জমিতে। গবাদি পশুর স্বাস্থ্য চাহিদা পুরনে সার্বিক চাহিদা পুরণে এই ঘাস খুবই উপকারি। আমি মনে করি অচিরেই শ্রীপুরে উন্নত জাতের ঘাস চাষে বিপ্লব ঘটবে। এই ঘাস চাষে বেকারত্বও ঘুচবে, অতিরিক্ত মুনাফা লাভের সুযোগ হবে এ নেপিয়ার ঘাস চাষে। বেকাররা এ ঘাস চাষ করে মুনাফা অর্জন করতে পারবে সহজেই।





