গাজীপুরের শ্রীপুরে ঘন্টাব্যাপী অস্ত্রের মুখে হাতপা বেঁধে জিম্মি করে দুই বাড়িতে লুটপাট করেছে এক দল ডাকাত। এ সময় আসবাপত্র তছনছ করে লুটপাত চালায় ডাকাতরা। নগদ দুই লক্ষটাকা ১৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল লুটে নিয়ে গেছে ডাকাতেরা। স্বর্নালঙ্কারসহ ১৫ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে দাবি ডাকাতের কবলে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। তারা বলেন ডাকতরা চলে যাওয়ার পর জিম্মিদশা থেকে একজন উদ্ধার হয়ে ডাকচিৎকার করলে আশপাশের মানুষ এসে বাকিদের উদ্ধার করে। তারা অভিযোগ করে বলেন এ ঘটনায় জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন দিলে তারা কোনো সহযোগীতা করেনি। এ সময় স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ডাকাত আসার খবর প্রচার করলে প্রতিবেশীরা সর্তক হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সকালে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে।
শনিবার মধ্যরাতে মাওনা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওর্য়াডের বেলতৈল গ্রামে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সাবেক মেম্বার আতাউর রহমান ও সোহরাব হোসেনের বাড়িতে ডাকাতরা লুটতরাজ চালায়। আতাউর ও সোহরাব তারা দুইজন আপন ভাই। ওই গ্রামের মৃত আলীম উদ্দীনের ছেলে তারা। আতাউর রহমান একই ওর্য়াডে দুই দফা মেম্বার ছিলেন। তবে এ ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেননা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজনরা জানায়- রাত পৌনে তিনটার দিকে এক দল ডাকাত বাড়ির কলাবসিবল গেইট (কেচি গেইট) ভেঙে সোহরাবের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এ সময় বাড়িতে ঢুকেই সোহরাবের দুই ছেলে সাদিক ও মোবারককে অস্ত্রের মুখে জিম্মিকরে। পরে ছেলে সাদিককে দিয়ে তাদের বাবার রুমে গিয়ে ডেকে তুলে। এর আগে সোহরাবের ছোট ভাই সাবেক মেম্বার আতাউর রহমানের বাড়িতেও ডাকাতরা লুটপাট করে। দুই বাড়িতে ঘন্টাব্যাপী ডাকাতদল ডাকাতি করেছে। তাদের দাবি করে বলেন দুই ভাইয়ের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ১৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ ১৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে ডাকাতরা।
ডাকাতের হাতে জিম্মি হওয়া মোবারক হোসেন বলেন, আমি একটু আগেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমার ভাইয়া পড়া শেষ করে ঘুমানোর কয়েক মিনিট পড়েই বাড়ির গেইট ভেঙে একদল ডাকার ঘরে ঢুকে পড়ে। বাড়ির কাছেই অনুষ্ঠানের মাইক বাজছিল বলে গেইট ভাঙার শব্দ টের পাওয়া যায়নি। ঘরে ঢুকেই আমার ঘাড়ে দা ধরে জিম্মি করে। পরে ভাইয়ার হাত বেঁধে বাবার রুমে নিয়ে ডেকে তুলে। তিনি বলেন ঘরের ভিতরে চারজনের মুখ ঢাকা ছিল। অন্যরা মুখ খুলেই ডাকাতির কাজ চালিয়েছে। ঘরে অন্তত আট থেকে দশ জন লুটপাট চালিয়েছে। এ সময় সবার কাছেই দেশীয় অস্ত্র ছিল।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত বলবেন আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আইন শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি কেমন এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দেননি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।





