শ্রেণীকক্ষে শিক্ষককে লাঞ্ছিত, প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

শ্রেণীকক্ষে শিক্ষককে লাঞ্ছিত, প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

  • নরসিংদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১০ মে, ২০২২

নরসিংদীর বেলাবতে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠেছে ওই স্কুলের সাবেক এক অভিভাবক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলের সামনের সড়কে ক্লাস বর্জন করে ওই অভিভাবকের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। এর আগে সোমবার সকালে উপজেলার ধুকুন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

লাঞ্ছিতের শিকার ওমর ফারুক ধুকুন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্ম বিষয়ের শিক্ষক। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মকবুল হোসেন। তিনি বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদের সাবেক অভিভাবক প্রতিনিধি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার সকালে ধুকুন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওমর ফারুক সপ্তম শ্রেণীর ক্লাস নিচ্ছিলেন। তিনি নির্দিষ্ট হাজিরা খাতা ছাড়া সাদা পাতায় উপস্থিতির তালিকা নিচ্ছিলেন। এসময় মকবুল হোসেন নামে সাবেক ওই অভিভাবক প্রতিনিধি কোন অনুমতি না নিয়ে শ্রেণীকক্ষে ঢুকে সাদা পাতায় কেন হাজিরা নিচ্ছেন এই অভিযোগে শিক্ষকের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। এসময় মকবুল হোসেন শিক্ষকের নিকট থাকা হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নেয়। এসময় বাঁধা দিতে গেলে শিক্ষককে পুণরায় গালিগালাজ করে মারপিঠের চেষ্ঠা করে। পরে মারপিঠে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষককে মেরে ফেলার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। এখবর বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করে এর প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনায় রাতেই শিক্ষক ওমর ফারুক অভিযুক্তমকবুল হোসেনের নামে বেলাব থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

লাঞ্ছিতের শিকার শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, মকবুল হোসেনের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন দ্বন্ধ নেই। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশেই আমি সাদা পাতায় হাজিরা নিচ্ছিলাম। এর জন্য তিনি আমাকে গালিগালাজ সহ মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের সামনে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, স্কুলটির ৭ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা চলায় কিছুদিন আগে ওই শ্রেণীর হাজিরা খাতাটি কোর্টে জমা করা হয়েছে। যার কারণে শ্রেণি শিক্ষক সাদা পাতায় উপস্থিতি নিচ্ছিলেন। এই লাঞ্ছিতের ঘটনার বিষয়ে বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে আমি মুঠোফোনে অবগত করেছি। আর একজন শিক্ষকের অপমান মানে সারা বিশ্বের শিক্ষকের অপমান। আমরা অভিযুক্তের যথাযথ বিচার দাবি করছি।

অভিযুক্ত সাবেক অভিভাবক প্রতিনিধি মকবুল হোসেন বলেন, আমি তাকে কোনোপ্রকার তিরস্কার করিনি। এক ছাত্র স্কুলে ছিলো না কিন্তু তার হাজিরা দেয়া ছিলো এটা নিয়ে তর্ক হয়েছে মাত্র। তবে সার্বিক বিষয়টির জন্য আমি দুঃখিত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads