শোবিজ

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব

ষষ্ঠ দিনে বরিশালের রয়ানী পালা ও জেলার পরিবেশনা

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৯ জানুয়ারি, ২০২০

জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের মাধ্যমে শিল্প-সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বহুমুখী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ৩ থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০২০ দ্বিতীয়বারের মতো ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২০’ আয়োজন করেছে। দেশের ৬৪টি জেলা, ৬৪টি উপজেলা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাঁচ হাজারের অধিক শিল্পী ও শতাধিক সংগঠনের অংশগ্রহণে ২১ দিনব্যাপী একাডেমির নন্দনমঞ্চে এই শিল্পযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে।

গতকাল বুধবার উৎসবের ষষ্ঠ দিন একাডেমির নন্দনমঞ্চে বিকাল ৪টায় জাতীয় সঙগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ঢাকার পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী; একক সংগীত পরিবেশন করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিল্পী শুসমী এবং শিশুশিল্পী সাদিয়া সেমন্তী শ্রেয়সী; এম আর ওয়াসেকের নৃত্য পরিচালনায় ‘বারো মাসে তেরো পার্বন এবং চলো এগিয়ে যাব’ গানের কথায় ২টি সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে নন্দন কলাকেন্দ্র; সমবেত সংগীত পরিবেশন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ এবং একক আবৃত্তি করেন শিল্পী আহকামউল্লাহ।

পটুয়াখালী জেলার পরিবেশনার শুরুতে জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, ‘বুকের ভিতর আকাশ নিয়ে এবং বাজেরে বাজে বাংলাদেশের ঢোল’ গানের কথায় ২টি সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পী মো. বায়েজীদ, শোভন, পারভেজ, সাইদুল, মুচকান, শান্তা, স্বর্ণালী, মিতু ও মৌ; ‘চলো স্বাধীন পথে এবং শোন একটি মুজিবরের থেকে’ গানের কথায় ২টি সমবেত সংগীত পরিবেশন করে শিল্পী বাদল, সিফাত, জুয়েল, নিলয়, হূদয়, মালা, পুতুল, অনামিকা, দীপান্বিতা ও মনিকা; একক সংগীত ‘দুর আযানের মধুরও ধ্বনি বাজে’ পরিবেশন করে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী মালা কর্মকার এবং উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী পুতুল মিত্র পরিবেশন করে ‘ওগো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ’; যন্ত্রে ‘কলো কেলা ছলো ছলো নদী করে টলো মলো’ সুর তোলেন যন্ত্রশিল্পী আরিফ, শেখর, পুতুল ও রঞ্জিত।

বান্দরবান জেলার পরিবেশনায় ‘জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও প্রদর্শনী; ‘আকাশ ছোঁয়া চিম্বুকে আয় হাত ছানি দেয় বনে’ গানের কথায় সমবেত সংগীত পরিবেশন করে শিল্পী বীনাপানি চক্রবর্তী, লিজা সংমা, সুমাইয়া আক্তার, রুম্বাতি ত্রিপুরা, দেবী দিপ্ত রূপা, ঐশি, দিলীপ নাথ, মো. হারুন, মান্নান আহমেদ ও জাহাঙ্গীর আলম; একিনু মারমা’র নৃত্য পরিচালনায় ‘মারমা বর্ষবরণ; ঐতিহ্যবাহী চাকমা দলীয় নৃত্য এবং বম পুষ্প নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পী আইভি বম, শিউলী বম, জেনেট বম, আদর বম, জসাইমে, মেসাইচাং, হ্লাএচিং ও হ্লাএনু; একক নৃত্য পরিবেশন করে জাতীয় পর্যায়ের নৃত্যশিল্পী একিনু মারমা; একক সংগীত লালন গীতি পরিবেশন করে শিল্পী দেবী দিপ্ত রূপা ঐশি; জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী একিনু মারমা; উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী সুমাইয়া আক্তার উমে এবং তবলায় সহযোগিতা করেন শিল্পী শংকর দাস।

নরসিংদী জেলার পরিবেশনায় তথ্যচিত্র প্রদর্শনী জেলা ব্রান্ডিং; ‘মুক্তির মন্দির সোপান তালে এবং নরসিংদী মোর জন্মভূমি’ গানের কথায় ২টি সমবেত সংগীত; ‘দে তালি বাঙ্গালী এবং জাগো বাংলাদেশ’ গানের কথায় ২টি সমবেত সংগীত; একক সংগীত পরিবেশন করে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী মেহরীন; উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী রাবেয়া আক্তার সেতু এবং ত্রিতালে তবলায় লহরা পরিবেশন করে যন্ত্রসংগীত শিল্পীরা।

একাডেমি প্রাঙ্গণে রাত ৮টায় দর্শনীর বিনিমেয়ে বিজয়গুপ্তের রচনায়, ইন্দ্রজিত কীর্তনীয়ার পরিচালনায় এবং মা মনসা সম্প্রদায় বরিশালের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য রয়ানী পালা ‘বেহুলা লখিন্দর’ মঞ্চস্থ হয়। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সরকার-ইন্দ্রজিত কীর্তনীয়া, সহশিল্পী প্রবীর বিশ্বাস ননী, শ্যামলী, উষা রানী ও রঞ্জতা রানী কীর্তনীয়া। যন্ত্রে সহযোগিতা করেছেন পতিত মিস্ত্রী, অরুণ মালি, সুমন্ত চন্দ্র বড়াল, শঙ্কর ব্যাপারী, সঞ্জয় হাওলাদার, রমনি সহজাল এবং কমল মণ্ডল।

দক্ষিণবঙ্গের বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে রয়ানী গান নামে পদ্মাপুরাণের জনপ্রিয় পরিবেশনা রীতি প্রচলিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞের মতে রয়ানী শব্দটি রওনা বা যাত্রা অর্থে ব্যবহূত হয়। আবার জাগরণ পালা হিসেবে রয়ানী শব্দটি প্রচলিত আছে। সারা দেশে ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারার মধ্যে এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিবেশনা রীতি। যেখানে সাধারণত পুরুষরাই অভিনয় করে থাকেন। পুরুষরাই নারী সেজে অভিনয় করে থাকেন। রয়ানী গানের দলে পুরুষরা প্রধানত বাদ্যযন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে দু’একটি ক্ষুদ্র ও হাস্যরসাত্মক অভিনয়ের ক্ষেত্রে বাদ্যযন্ত্রী দল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে কোনো কোনো পুরুষ শিল্পী অভিনয়ে অংশ নিতে দেখা যায়। এ ধরনের পরিবেশনা সাধারণত শ্রাবণসংক্রান্তিতে মনসার পূজা উপলক্ষে বেশি হয়ে থাকে। রয়ানী গান পরিবেশনার শুরুতে বাদ্যযন্ত্রীরা আসরে এসে ভক্তি করে প্রণাম করে হারমোনিয়াম, বেহালা, খোল, করতালের সম্মিলিত সুরে যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করেন। ওই সময়ে নারী গায়েনেরা বন্দনাগীতে মনসা দেবী, বিভিন্ন দেব-দেবী, মুনি-ঋষি, শিক্ষাগুরু, চর্তুদিকের দর্শকদের বন্দনা করেন। বর্ণনাত্বক গীতের মাধ্যমে রয়ানী গানের আখ্যান পরিবেশন করা হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads