টাঙ্গাইলের সখীপুরে খোরশেদ আলম শিকদার (৫৭) নামের এক কৃষককে ছুরিকাঘাত ও মুখে বিষ ঢেলে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তারই বড় ভাই মুকছেদ আলীর (৬০) বিরুদ্ধে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোরশেদ আলমের মৃত্যু হয়।
নিহত খোরশেদ আলম উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের মৃত মুকদম আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হানিফ সিকদার বাদী হয়ে তার বড় চাচা মুকছেদ আলীসহ চারজনকে আসামি করে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ শনিবার সকালে নিহতের বড় ভাই মোকছেদ আলী (৬০) ও প্রতিবেশী ছানোয়ার হোসেন (৪২) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠিয়েছে।
নিহতের ছেলে হানিফ সিকদার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে তার বড় চাচা মোকছেদ আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার বংকুরী বাজার থেকে সখীপুর উপজেলার বড়চালা গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় চাচা মোকছেদ আলী তার প্রতিবেশী ছানোয়ার হোসেন, তোতা মিয়া ও আব্দুর রহিমসহ অজ্ঞাত ২/৩ জন নিয়ে খোরশেদ আলমের পথরোধ করে। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের পাঁজরে আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় খোরশেদ আলম রাস্তার পাশে কাজী মিয়ার বাড়িতে গিয়ে পড়লে ওই বাড়ির লোকজন তার বাড়িতে খবর দেয়। তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে খোরশেদের মৃত্যু হয়।
নিহত খোরশেদ আলমের দুই ছেলে হানিফ সিকদার ও সোলাইমান সিকদার জানান, বিরোধের জেরধরে আসামিরা খুন করেছে বলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা আমাদের জানিয়েছেন। ওই স্বীকারোত্তির ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।
মির্জাপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, নিহত ব্যক্তির বুকের পাঁজরে ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক ওবায়দুল হক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সহোদরসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





