সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ইসি : সিইসি

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ইসি : সিইসি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩ নভেম্বর, ২০২১

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন ‘বিব্রত ও উদ্বিগ্ন’। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এ কথা বলেন। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ইতিবাচক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। আমরা মেসেজ দিতে চাই—এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এর দায় তাদের ওপরেও বর্তাবে।

এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশনাররা। রুদ্ধধার ওই বৈঠকে সিইসি ছাড়াও তিনজন নির্বাচন কমিশনার, ইসির সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেন। তবে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার উপস্থিত ছিলেন না। আগামী বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও বৈঠক করবে ইসি।

বৈঠকের পর সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনি সহিংসতা বেড়ে যাচ্ছে ঠিকই। আমরাও তা প্রত্যক্ষ করছি। মাঠ পর্যায়ে কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া দরকার, সেগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করছি। বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।’ নির্বাচনি সহিংসতা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে, তাতে বিব্রত ও উদ্বিগ্নতা কাজ করছে। সেগুলো কীভাবে নিরসন করা যায়, তা নিয়ে কমিশনারদের সঙ্গে আরো বিস্তারিত আলোচনা করে মাঠ পর্যায়ের যারা আছেন, তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

নির্বাচনি পরিস্থিতি ইসির নিয়ন্ত্রণে আছে  কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমাদের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ আছে। নির্বাচনের যারা অংশ নেন, যেমন-রাজনৈতিক দল, ভোটার ও প্রার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। সুতরাং, আমরা এখানে যতই যা করি না কেন, মাঠ পর্যায়ে যদি সহনশীলতা না থাকে, তাহলে এ নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।’

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে, কিন্তু প্রতিহিংসামূলক হবে না—এটা আহ্বান করি। মাঠপর্যায়ে নির্বাচনে সহিংসতা যে বেড়েছে, তা সকলের প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার।’

নির্বাচনি সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক দলের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে সত্য যে, আমরা খুব পজিটিভ দেখছি না। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। নির্বাচনের বিষয়টি শুধু নির্বাচন কমিশনের নয়, এটা সকলেরই। আমরা শুধু নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় থাকি। তারা (রাজনৈতিক দল) আরো  একটু প্রো-অ্যাকটিভ হলে সহিংসতা কমবে।’

আইন প্রয়োগে শিথিলতায় সহিংসতা বেড়েছে কিনা, প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা বলেন, ‘আমাদের কাছে যখনই যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলোর পদক্ষেপ নেই। অন দ্য স্পট যতগুলো ফৌজদারি ঘটনা ঘটে, সেগুলোর বিষয়ে প্রস্তুতি থাকে না। হঠাৎ করে ক্রিমিনাল অফেন্স ঘটে যায়। তখনই আমরা ব্যবস্থা নেই। এসব ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত হয় না এবং হঠাৎ করে ঘটে যায়। যে কারণে প্রশাসন আগে  থেকে তা জানতে পারে না। ফৌজদারি যেসব ঘটনা ঘটে, সেগুলো সেই ফৌজদারি আইনে নির্ধারিত হবে। এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে।’

শরীয়তপুরের চিতলিয়া ইউয়নিয়ে পরিষদে জাল সইয়ে  প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইসির পদক্ষেপের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। একজন যুগ্ম-সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি সেখানে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিইসির পাশে থাকা নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের সবগুলো দিক নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাদেরকে আমরা মেসেজ দিতে চাই—এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এর দায় তাদের ওপরেও বর্তাবে। তাদেরকেও জবাবদিহির অধীনে আনবো। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের বলতে— দয়া করে আপনারা যেন একটু শান্ত থাকার চেষ্টা করেন, যেন সহিংসতা না হয়। শান্ত থাকলে এ ধরনের ঘটনা সীমিত হয়ে আসবে। নির্বাচনে ইসির নিয়ন্ত্রণ আছে কিনা, জানতে চাইলে  এই কমিশনার বলেন, ‘আইনে যা আছে সেই অনুযায়ী কাজ করছি।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads