শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। দুপুরে খাবারের বিরতির পর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক তাহরীম হোসেন সীমান্ত’র নাম ঘোষণা করা হলে সভাপতি শরীফের কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল বের করে। এসময় সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভকে ধাক্কার ঘটনা ঘটে। পরে খান আহমেদ শুভ ও নবাগত সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদের সমর্থকদের সাথে বাকবিতণ্ডা ও পরে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ওই মুহূর্তে উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকা থমথম ও মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের দো’তলা ভবন থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল ঘোষণার পর সভাপতি মনোনীত মীর শরীফ মাহমুদের সমর্থকরা একটি মিছিল বের করে। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভকে কোনো একজন ধাক্কা দেয়। এতে সংসদ সদস্যের সমর্থকেরা প্রতিবাদ করলে দু’পক্ষের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঠা ব্যবহার করেন উভয় পক্ষের লোকজন এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরের ফুলের টব ও গাছ ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পরবর্তী সময়ে সাংসদের সমর্থকেরা এমপি একাব্বর হোসেন সড়ক অবরোধ করলে দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণ করলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। খবর পেয়ে মারামারির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ক্যামেরা চালাতে বাধাগ্রস্ত ও হুমকি প্রদান করেন সংসদ সদস্যের কর্মী-সমর্থকেরা!
মীর শরীফ মাহমুদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এমপি’র শরীরে কেউ ধাক্কা দেয়নি। মিছিল করার সময় হয়তো মানুষের চাপাচাপিতে ধাক্কা লেগেছে। এতে এমপির লোকজন ক্ষীপ্ত হয়ে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে ৪ জন আহত হয়েছে বলে শুনেছি, তবে তাদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উল্লেখ করেন, যারা হামলা করেছেন তাদেরকে কখনো আওয়ামী লীগ করতে দেখিনি!
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমাকে একটি ছেলে ধাক্কা দিলে সেটির প্রতিবাদ করায় আমার এক সমর্থকের সাথে হাতাহাতি হয়। পরে আমি বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমার তিন-চারজন সমর্থক আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যদিও সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) এস.এস. মনসুর মূসা ও মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলম চাঁদের কাছে মারামারির ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কাছে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি।





