কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের সাইফুল্লা বিশ্বাসের (৪০) লাশ মিলেছে নেত্রকোনায়। দুর্বৃত্তরা তাকে মুখমন্ডল পুড়িয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রাখে। বৃহস্পতিবার তার মরদেহ নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের হানবীর গ্রামের দেওরাজান নদীর পাশের বালুচর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাইফুল্লাহ বিশ্বাস কাশিপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ তিন ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে। নেত্রকোনা পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন বৃহস্পতিবার সকালে দেওরাজান নদীর পূর্ব পাশের তেল্লা বালুচরে মরদেহটি দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) শফিকুজ্জামান গনমাধ্যমকর্মীদের জানান,বুধবার রাতের কোনো এক সময় এ হত্যাকান্ড ঘটে। ওই যুবককে কেউ যাতে চিনতে না পারে, সেজন্য হত্যার পর গায়ের জামাকাপড় দিয়ে মুখমন্ডল পেঁচিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থেকে তার স্বজনরা এসে লাশ সনাক্ত করে লাশ নিয়ে যান। এদিকে নিহত’র স্বজন শওকত আলী জানান, সাইফুল্লাহ গত পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে পরাজিত হন। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতেন। পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, সাইফুল্লাহ ঢাকায় বিয়ে করেন। তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহের কারণে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বেসরকারী কোম্পানীর চাকরী হারিয়ে সাইফুল্লাহ ঢাকায় মটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পুলিশের ধারণা যাত্রী সেজে ঘাতক চক্রটি সাইফল্লাহর মটর সাইকেলে উঠে নেত্রকোনায় নিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহে ৩ জন কে গ্রেফতার করেছে।





