সাফারি পার্কে গয়াল শাবকের জন্ম

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

সাফারি পার্কে গয়াল শাবকের জন্ম

  • রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর
  • প্রকাশিত ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে একটি পুরুষ গয়াল শাবকের জন্ম হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পুরুষ এ গয়াল শাবকের জন্ম হয়। আফ্রিকান সাফারির ভিতরে হরিণ সাফারিতে প্রাকৃতিক ভাবেই এ গয়াল শাবকের জন্ম হয়েছে। এ নিয়ে এ সাফারি পার্কে  উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে কয়েক দফায় গয়াল শাবকের জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসেও গয়াল দুটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। সাফারি পার্কে গয়াল এখন ৮ সদস্যের একটি  পরিবার হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে বিভিন্ন প্রাণির সাথে গয়াল নিয়মিত বাচ্চার জন্ম দিচ্ছে পার্কে।

শাবকের নিরাপত্তার কথা ভেবে এ খবর গোপন রাখে কর্তৃপক্ষ। শাবকগুলোর শারীরিক অবস্থা ভাল থাকায় এ খবর প্রকাশ করা হয়।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, এ পার্কে বাঘ সিংহসহ বেশ কিছু বড় বড় প্রাণী উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে বাচ্চা দিয়েছে। এর আগেও গয়াল এ পার্কে বাচ্চা দিয়েছে। গয়াল বছরে একটি বাচ্চাই প্রসব করে । তবে কখনো কখনো গরুর মতো দুটি বাচ্চা দেওয়ার রের্কডও রয়েছে। গয়াল ২৭৫ দিন গর্ভকালীন সময় পার করে শাবকের জন্ম দেয়। ২-৩ বছরে এরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়। গয়াল ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। একটি পুরুষ গয়াল এক হাজার কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। তবে পার্কের গয়াল ৬০০ থেকে ৭০০ কেজির বেশি না। পার্কে  চারটি পুরুষ ও চারটি নারী গয়াল রয়েছে।

আগত দর্শনার্থীরা জানান, পার্কের আফ্রিকান সাফারি বেষ্টনীতে চিত্রা হরিণ, গ্যাজেল, সাম্বার হরিন, মায়া হরিণসহ গয়ালগুলো এক সঙ্গে বাস করে।

তারা আরো জানান,  এ পার্কে ইতোমধ্যে জেব্রা, জিরাফ, বাঘ সিংহসহ বড় প্রাণীরা বিভিন্ন সময় শাবকের জন্ম দিয়েছে। যা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। গয়াল শাবকগুলো জন্মের সময় লাল রঙের হয়ে থাকে। পরে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালো রঙ ধারণ করে গয়াল শাবকগুলো। তবে প্রকৃতিতে এখন আর অবাধে বিচরণ করতে দেখা যায় না গয়ালকে। 

ওয়াল্ডলাইফ সুপার ভাইজার আনিসুর রহমান জানান, গয়াল হরিণ সাফারিতে বিভিন্ন প্রজাতির হরিণের সঙ্গে একত্রে বসবাস করে। গয়াল সাধারণত কচি ঘাস খেতে বেশি পছন্দ করে। ঘাসই এদের প্রধান খাদ্য। আমরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় করে গাজর, ভুষি, মিষ্টি কুমড়া দেই। গয়াল এক টন পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। তবে পার্কে থাকা প্রাপ্তবয়ষ্ক গয়ালগুলো ৫০০-৬০০ কেজি ওজনের।

পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হাতেম মোহাম্মদ জুলকার নাইন মানিক জানান, সুস্থ্য সবল রয়েছে গয়াল শাবকটি। আরো শাবকের জন্ম হতে পারে কিছু দিনের মধ্যেই। গর্ভবতী আরো আছে দুটি গয়াল।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো.তবিবুর রহমান জানান, উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে বেশ কিছু বিরল প্রাণি সাফারি পার্কে বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। এখানে উটপাখি, ক্যাঙ্গারু, ময়ূর, ইমুপাখিও বাচ্চা দিয়েছে। সম্প্রতি গয়ালও আরো একটি বাচ্চার জন্ম দিল। চলতি বছরের জুনেও বাচ্চা দিয়েছিল গয়াল দম্পত্তি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads