সামান্য বৃষ্টিতে স্কুল মাঠে জলাবদ্ধতা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

সামান্য বৃষ্টিতে স্কুল মাঠে জলাবদ্ধতা

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ১১ অক্টোবর, ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পয়:নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ ভাবে সরকারি খাল দখল করায় বছরের বেশীভাগ সময় বিদ্যালয়ের মাঠসহ আশপাশে এ সৃষ্টি হয়ে আছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আশপাশের লোকদের চলাচলে প্রতিনিয়ত চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিতাস নদীর বনগজ এলাকার কালিতলা পশ্চিম কবরস্থান থেকে একটি খাল ছিল। কালের বিবর্তনে এই খালের কোন চিহ্ন খোঁজে পাওয়া না গেলে ও একটি সেতু থাকার কারনে বোঝা যায় এখানে খাল ছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ ভাবে খাল দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় এখন যেন খালের অস্তিত্ব পাওয়া যেন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পয়:নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয় মাঠসহ আশপাশে দীর্ঘ দিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের প্রবেশ পথে বারান্দার সামনে থেকে মাঠে বড় একটি অংশে পানি জমে আছে। পাশাপাশি পানির সাথে রয়েছে কচুরিপানাও। বিদ্যালয়ের মুল ফটকের সামনে সংযোগ খালটি প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আছে। টানা বৃষ্টি হলে পুরোমাঠ এবং রাস্তাঘাট যেন তলিয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার ও মিলি আক্তার জানায়, সামান্য বৃষ্টি হলে আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকে। তখন বিদ্যালয়ে আসতে ভয় করে।
৩য় শ্রেণির ছাত্র রিফাত মিয়া জানায়, করোনায় স্কুল বন্ধ থাকলে ও স্কুলের রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হয়। স্কুল মাঠে পানি জমে থাকার কারণে চলাচল করতে ভয় করে।

অভিভাবক হাফেজ জামিল জানায়, খাল ভরাট হওয়ায় পানি যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষিটতেই স্কুল মাঠে পানি জমে থাকে। পয়নিস্কাশনের ব্যবস্থা না করলে বড় ধরণের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রভাবশালীরা খাল দখল করে বাড়িঘর তৈরি করায় বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির পানি লেগে থাকে। ছেলে মেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠালে আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়।

তিনি আরো বলেন, এ সড়ক দিয়ে শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীই চলাচল করে না। তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সানু মিয়া বলেন, সামাজিক ভাবে পয়: নিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে অনেক চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে মৌখিক ভাবে অবগত করা হয়েছে বলে জানায়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবু জাফর বলেন, জলাবদ্ধতা নিয়ে একাধিক বার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা হয়েছে। সামাজিক সমস্যার কারণে তা করা যাচ্ছে না। পানি থাকার কারনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানায়।

তিনি আরো বলেন, স্কুল সংলগ্ন একটি খাল ছিল। দখল হয়ে যাওয়ায় পানি সরতে না পারায় মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া বাড়ি ঘরের ময়লা আবর্জনার পানি এসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দুষিত করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, খালের উপর অবৈধ ভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরকারি খাল যারা অবৈধ ভাবে দখল করছে তাদের তালিকা তৈরী করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সরকারি ভাবে খালটি খনন করে এর নাব্যতা ফিরে আনা হবে। এতে করে স্কুলসহ আশপাশে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads