সাড়ে ৪ হাজার একর জমি বেহাত

লোগো বাংলাদেশ রেলওয়ে

জাতীয়

উদ্ধারে নতুন উদ্যোগ

সাড়ে ৪ হাজার একর জমি বেহাত

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ৪ এপ্রিল, ২০১৯

বাংলাদেশ রেলওয়ের বেদখল জমি উদ্ধারে আবারো সক্রিয় হচ্ছে সরকার। জমি উদ্ধারে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালের পর রেলের আর কোনো রেল লিজ না দেওয়া এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শূন্যপদে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ৪ হাজার ৩৯১ একর জমি এখন বেদখলে। প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব জমি জবরদখল করে আছেন। দখলদাররা কোথাও মার্কেট, কোথাও বাজার আবার কোথাও বস্তি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। অনেক জায়গায় আবার রাজনৈতিক কার্যালয়ও আছে। বছরের পর বছর চলে গেলেও এসব জমি উদ্ধার করতে পারছে না রেলওয়ে।

গতকাল রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রথম সভা জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রেলের বেহাত জমি উদ্ধারে বিশদ আলোচনা হয়। গতকালের সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।

সূত্র বলছে, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে এদিকে নজর দিতে শুরু করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সংসদ সদস্য মো. সাইফুজ্জামানকে।

রেলওয়ে সূত্র বলেছে, সারা দেশে বর্তমানে রেলওয়ের মোট জমি ৩১ হাজার ৮৬০ একর। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ১ হাজার ৪ একর এবং পশ্চিমাঞ্চলে ৩ হাজার ৩৮৭ একর জমি বেদখল হয়ে আছে। পূর্বাঞ্চলের দখল হওয়া জমির মধ্যে ৭৮০ একর জমি ঢাকা বিভাগে এবং ২২৩ একর জমি চট্টগ্রাম বিভাগে। পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে ৯১৭ একর জমি লালমনিরহাট অঞ্চলে এবং ২ হাজার ৪৭০ একর জমি পাকশী অঞ্চলে। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি জমি বেদখল হয়েছে পাকশী অঞ্চলে।

গত ১০ বছরে সরকার সাড়ে ৩শ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করেছে। নির্মাণ করা হয়েছে ৯১টি স্টেশন বিল্ডিং। এছাড়া আড়াই কিলোমিটার মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, নতুন ৭৯টি রেলস্টেশন নির্মাণ এবং ২৯৫টি রেল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। রেলওয়ের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ৩০ বছরমেয়াদি একটি মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদিত হয়েছে। মেরামত শেষে ৪৩০টি যাত্রীবাহী কোচ রেলওয়ের বহরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে রেলকে লোকসান থেকে যেমন ফেরানো যায়নি, তেমনি উদ্ধার হয়নি রেলের বেদখল জমি।

কর্মকর্তারা বলছেন, রেলের বেহাত জমি উদ্ধারে আগে দরকার রাজনৈতিক সদ্দিচ্ছা। এটি ছাড়া যত কমিটিই গঠন করা হোক না কেন, কোনো কাজে আসবে না। সরকারের সদ্দিচ্ছা থাকলে জমি উদ্ধার সময়ের ব্যাপারমাত্র। তারপরও হয়তো রেলপথ মন্ত্রণালয়কে মামলা মোকাবেলা করতে হবে। জবর দখলকারীদের বেশিরভাগের সঙ্গেই রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক আছে। এ কারণেই অধিকাংশ সময় দখলমুক্ত করা যায় না। তবে রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেও জমি দখলের অভিযোগ আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলখদাররা কেউ কেউ জমিতে অবৈধভাবে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছে। আবার কেউ একতলা ভবন নির্মাণের পর দোতলার কাজ শুরুর অপেক্ষায়। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের অনুমোদন ছাড়া রেলের কোনো জায়গা লিজ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কোনো জায়গা বরাদ্দের ক্ষেত্রে আবেদনপত্র পাওয়ার পর সার্বিক যাচাই-বাছাই করে তা এক বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রেল কর্তৃপক্ষ প্রতিবার এক বছর করে লিজের মেয়াদ বাড়াতে পারে। তবে সম্পত্তি বিভাগের মতামত ছাড়া রেলের অন্য কোনো বিভাগের জমি লিজের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার নেই। কিন্তু রেলেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে জাল অনুমতিপত্র বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি।

কোথাও পরিত্যক্ত জমিতে প্রভাবশালীরা বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করেছেন। কোথাও নির্মিত হয়েছে বহুতল ভবন। আবার রেলের জমিতে বস্তি তৈরি করেও ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এসব বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে অপরাধীরা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের নিজস্ব জনবল দিয়ে রেল পরিচালনা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী ২০২০ সালের পর রেলের আর কোনো জমি লিজ না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে এরই মধ্যে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শূন্যপদে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়নের জন্য মো. শফিকুল আজম খানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে কোচ আমদানিতে সংঘটিত অনিয়ম তদন্ত করতেও গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি। সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামানান নূরকে আহ্বায়ক করে দুই সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয়।

জানতে চাইলে মো. সাইফুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। আমরা দেশের এই সম্পদ কীভাবে উদ্ধার করা যায় সেই পরিকল্পনা নিয়ে যা যা করা দরকার করব।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads