কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সোমাবার দুপুর ২টা পর্যন্ত মামালার স্বাক্ষ্যগ্রহনের কার্যক্রম শেষ হয়নি বলে জানা গেছে। আদালতে স্বাক্ষী হিসাবে উপস্থিত আছেন নিহত মেজর সিনহার মোঃ রাশেদ খানের বোন ও মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। এছাড়া মেজর সিনহার সঙ্গী হিসাবে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং স্থানীয় মোহাম্মদ আলীসহ মোট ৩ জন স্বাক্ষ্য দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট তাপস রক্ষিত।
সকাল ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈলের আদালতে স্বাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এতে প্রথমেই স্বাক্ষী হিসেবে কাঠগড়ায় রয়েছে মামলার বাদি ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস।
কক্সবাজার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, যেহেতু ১৫ জন আসামি তাই জেরা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের কারনে দেরি হচ্ছে। যেহেতু এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা। তাই এখানে সব কিছু গুরুত্বের সাথে দেখতে হচ্ছে। আর আসামি পক্ষে চট্টগ্রাম থেকে আসা অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অ্যাডভোকেট চন্দন দাসসহ অনেকে আছেন। আর সিনহা হত্যা মামলায় ৮৩ জনের স্বাক্ষী গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে প্রথম তিন দিনে ১৫ জনকে উপস্থিত থাকার জন্য সমন দেওয়া হয়েছে। স্বাক্ষীরা যাতে নির্বিঘ্নে আদালতে উপস্থিত থাকতে পারে সেই ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। ৱ
এর আগে গত ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই স্বাক্ষ্যদানের দিন ধার্য থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে যায়। পরে গত ১৬ আগস্ট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ২৩, ২৪ ও ২৫ আগস্ট স্বাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আদেশ দেন। গত বছর ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর আবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
এ ঘটনায় সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদি হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা তদন্তভার পায় র্যাব । তদন্ত শেষে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন র্যাব ১৫-তে দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২৭ জুন অভিযোগপত্র গঠন করে বিচারক। মামলার আসামিরা হলেন বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোফা, এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাবেক এএসআই সাগর দেব।





