সুনামগঞ্জে জলমহাল দখল ও ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় আরো ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জেলার ধর্মপাশা উপজেলার পাইকরহাটি ইউনিয়নের বেখইজুরা গ্রামের মিয়াজ হোসেনের ছেলে জুয়াদ মিয়া (৫৫), একই গ্রামের সজল খানের ছেলে রনি খান (৩৫) ও শেলবরশ গ্রামের স্বপন চৌধুরীর ছেলে তানিন চৌধুরী (২৫)।
গতকাল বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিবি পুলিশের সহযোগীতায় অভিযান চালিয়ে উপরের উল্লেখিত ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে আরো ২১জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এঘটনার পর থেকে ধর্মপাশা উপজেলার সুনুই, বেখইজুরা, নদার ও শেলবরশ গ্রামের শতকরা ৯০ভাগ পুরুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এর ফলে অভিভাবকহীন হয়ে সীমাহীন কাষ্টের মাঝে দিন-যাপন করছে পালিয়ে যাওয়া পুরুষদের অসহায় স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার-পরিজন। বর্তমানে তারা সবাই রয়েছে ভয়াবহ আতংকের মাঝে। কারণ হত্যাকান্ডের ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। চলছে পুলিশি অভিযান।
এব্যাপারে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়- জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সুনুই জলমহালের মালিকানা ও ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে প্রভাবশালী দুইটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ চলছিল। তারই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ২য় গ্রুপের পক্ষে সুবল বর্মন তার লোকজন নিয়ে ১ম গ্রুপের চন্দন বর্মনের বাড়িঘর ও জলমহালের খলায় অগ্নিসংযোগ করে। এসময় ২য় গ্রুপের লোকজনকে বাঁধা দিতে ১ম গ্রুপের শ্যামা চরণ বর্মন (৬৫) এগিয়ে আসলে ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে। তাতে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধ শ্যামা চরণের মৃত্যু হয়। এঘটনা খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ২৩জনকে গ্রেপ্তার করে এবং থানায় নিয়ে ২ জনকে ছেড়ে দেয়।
এঘটনার প্রেক্ষিতে ধর্মপাশা থানার এসআই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬০-৬৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আর ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা ২১জনকে জেলহাজতে পাঠায়। কিন্তু নিহতের ছেলে চন্দন বর্মন বাদী হয়ে ৬৩জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করতে থানায় গেলে মামলাটি পুলিশ গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন নিহতে ছোট ভাই মনীন্দ্র চন্দ্র বর্মন।
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দিলোয়ার হোসেন এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই প্রতিবেদককে বলেন- জেলার আলোচিত সুনুই নদীর জলমহাল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত আদালতে মামলা চলছে। এজন্য আমরা চাই না কোন নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানীর শিকার হোক। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে উপরস্থ কর্মকর্তার নির্দেশে আমরা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করেছি। তবে অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।





