কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
সূর্যমুখীতে ছেযে যাচ্ছে এলাকার বিভিন্ন ফসলের মাঠ। মাঠে মাঠে ছড়িয় পড়ছে এ ফুলের সৌন্দর্য। ফুলের সৌরভ ছড়াচ্ছে চারপাশে। মৌমাছি এসে খেলা করছে ফুলে ফুলে। ক্ষেতজুড়ে ফোটে ওঠা সূর্যমুখী ফুলের হলুদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছে শত শত মানুষ। ফুলের সৌন্দর্যকে নিজের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করছেন অনেকে। ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার চাষ হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের।প্রকৃতিকে রাঙ্গিয়ে সূর্যমুখী এখন কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ, মহেশপুরসহ জেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠজুড়ে হলুদের গালিচা বিছিয়ে অপরূপ সাজে সেজেছে। আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় এখানে এ ফুল চাষে সাফল্য এসেছে। পাশাপাশি ফুল থেকে উৎপাদিত তেল ও খৈল বিক্রি করে লাভবান হবেন কৃষকরা। মূলত ভোজ্যতেল ও গরুর জন্য খৈল তৈরির উদ্দেশ্যে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ।
বিশেষ করে মিলছে কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা,কালুখালি,সদর উপজেলার কুলফাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে। সূর্যমুখী চাষ করেছেন বেশ কয়েকজন চাষি। এতে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলে মত সংশি¬ষ্টদের। তবে দর্শনার্থীর ভিড়ে ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন চাষিরা। সূর্যমুখী ভোজ্যতেলের অন্যতম উৎস। বেশ স্বাস্থ্যকরও। হৃদরোগ প্রতিরোধে এ তেল ভালো ভূমিকা রাখে। তেল ও বীজের চাহিদা থাকায় বাজারে দাম ভালো পাওয়া যায়। এসব বিবেচনায় নিয়ে সদরের কুলফাডাঙ্গা, সয়াইল, সাধুহাটি, মুরারিদহসহ কয়েকটি গ্রামে সাড়ে ৩৭ বিঘা জমিতে আবাদ হয়েছে। ৪৩১ মণ বীজ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত বছর ১৮ বিঘায় ১০৫ মণ বীজ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
উপজেলা কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে কৃষকদের এক কেজি করে বীজ এবং ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দিয়েছে। বপনের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যে বীজ সংগ্রহের উপযোগী হবে। কুলফাডাঙ্গার চাষি রফিকুল আলম বলেন, সূর্যমুখী চাষ লাভজনক হলেও ব্যয়বহুল। তাঁর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। ফুল ভালো হওয়ায় ফলনও ভালো হবে বলে আশা তাঁর। সূর্যমুখীর ক্ষেত দেখাশোনা করেন পরশ মন্ডল। চাষাবাদের নিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, ১১ ইঞ্চি পরপর বীজ বপন করা হয়। চারা বের হলে সেচ দিয়ে মাটি বেঁধে দিয়ে সার দেওয়া হয়।
এবার পরাগায়ন ভালো হয়েছে, দানাও ভালো।এদিকে সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষেতে ভিড় করছে মানুষ। ক্ষেতের মধ্যে গিয়ে ছবি তুলছে। এতে ফুলের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মালিকরা। রফিকুল আলম বলেন, প্রচুর মানুষ এসে ক্ষেতে ঢুকে ফুল ছিঁড়ে, গাছ ভাঙে। এতে ফলনে প্রভাব পড়ে। সৌন্দর্য উপভোগ করলেও কেউ যেন ফুল না ছিঁড়ে, সে আহবান জানিয়েছেন ঝিনাইদহ শহরের বাসিন্দা জারিন তাসনিম। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মেয়ে রহালি হীরা স্বামীকে নিয়ে এসেছিলেন ফুল দেখতে। তাঁর ভাষ্য, মাঠের মধ্যে সূর্যমুখী ফুল আসলেই মনোমুগ্ধকর।
কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ-নবী বলেন, সূর্যমুখী তেলে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ বেশি। কৃষি বিভাগ সূর্যমুখী আবাদ বাড়াতে চেষ্টা করছে।





