বঙ্গোপসাগর হতে উদ্ধার ২৯ জন রোহিঙ্গার অবশেষে ঠাঁই হলো নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে। এদের সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবুল খায়ের ।
তিনি বলেন, ‘নৌ বাহিনী সাগরে ভাসমান অবস্থায় এদের উদ্ধার করে গত শনিবার। প্রথমে ২৮ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে হস্তান্তর করা হলেও পরে আরো ১ জনসহ মোট সংখ্যা দাড়াঁয় ২৯ জনে।’
সরকার লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভাসানচরকে প্রস্তুত করে রাখে। কক্সবাজারের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা পরিবারকে সেখানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও কিছু এনজিও ও রোহিঙ্গাদের সেখানে যেতে অনাগ্রহের কারনে তার বাস্তবায়ন সম্ভব হযনি। এই প্রথম কোন রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হলো।
এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, ২ মে শনিবার ভোরে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীরতীর নুনিয়াছড়া এলাকা থেকে শিশু ও দালালসহ ২৯ জন রোহিঙ্গাকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তাদের উদ্ধার করে সাগর পথে ভাসানচর নিয়ে যাওয়া হয়। করোনা ভাইরাসজনিত লক ডাউন ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চ পর্যায় হতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে জানান, এরা সব ক্যাম্পের পুরাতন রোহিঙ্গা। একদিন আগে তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ট্রলারে উঠেন। রাতভর সাগরে বিচরণ করে শনিবার সকালে মালয়েশিয়া পৌঁছেছে বলে কক্সবাজার নুনিয়াছড়া নদীর তীরে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয় ট্রলার থেকে। পরে এসব রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে ভাসানচড়ে পাঠানো হয়।
এদিকে অপর একটি সুত্রে দাবী করা হয়েছে যে, সাগরে কয়েকমাস ধরে ভাসমান মালয়েশিয়াগামী ট্রলার কোথাও ভিড়তে না পেরে অবশেষে ছোট ছোট বোটযোগে কক্সবাজার উপকূলে ঢুকে পড়ছে। আর এসব কাজে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে ইউএনএইচসিআরসহ জাতিসংঘের কিছু সংস্থা। গত ১৫ এপ্রিল রাতে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ উপকূলে ভিড়ে। যারা কি না দুমাস ধরে মালয়েশিয়ায়, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে ভিড়তে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর আরো দুটি রোহিঙ্গা বোঝাই জাহাজ সাগরে ভাসছে।
তাদেরকে বাংলাদেশ আশ্রয় দেওয়ার আহবানও জানায় জাতিসংঘ। বাংলাদেশ তাদের দায় নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এরপর কৌশলে তারা সীমান্ত উপকূল দিয়ে ছোট ছোট দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।





