সেদিন কি ঘটেছিল ইউএনও'র বাসভবনে, ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন গার্ড সুনীল

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

সেদিন কি ঘটেছিল ইউএনও'র বাসভবনে, ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন গার্ড সুনীল

  • ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গত বৃহঃপতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার সময় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের সরকারী বাস ভবনের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলী শেখ কে হাতুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে একজন সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ও র‌্যাব প্রাথমিক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সহ ৬ জনকে আটক করে।

ৱজিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত শুক্রবার (৪ই সেপ্টেম্বর) সন্ধায় রংপুরে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৩ কার্যালয়ে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রেজা আহম্মেদ জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে আটক আসামী আসাদুল (৩২), নবিরুল ইসলাম (৩৩) ও সান্টু চন্দ্র দাস (২৮)। অপর দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোন সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আটক জাহাঙ্গীর, মাসুদ ও নৈশ্যপ্রহরী নাহিদ হাসান পলাশকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

তবে সেদিন আসলে কি ঘটেছিল তার বিস্তারিত বর্ণনা আমার সংবাদ কে দিয়েছেন ইউএনও'র সরকারী বাসভবনের গার্ড সুনীল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াহিদা খানমের সরকারী বাস ভবনের পশ্চিম পাশে সুরক্ষা দেওয়ালের গাঁ ঘেঁষে থাকা একটি আম গাছের সহযোগীতায় একজন হামলাকারী ভিতরে প্রবেশ করে। এর পর ইউএনও'র বাসভবনের পাশে কবুতরের ঘরে থাকা একটি কাঠের মই এবং ভবনের সামনে অবসর সময় কাটানোর গোল ঘর থেকে একটি প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে আসে সে। এবার সেই মই ও চেয়ারের সহায়তায় প্রাচীরের অপর পাশে থাকা আরো একজন ভিতরে প্রবেশ করে। এর পর সেই মইয়ের সহায়তায় ভবনের প্রথম তলার জানালার উপরে থাকা সানসেটে উঠে একজন হামলাকারী। এরপর আবারও সেই মইয়ের সহয়তায় জানালার সানসেটের উপর থেকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের শোবার ঘর অর্থাৎ দ্বিতীয় তলায় টয়লেটের ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে সেই হামলাকারী।

গতকাল শুক্রবার পুলিশ ঘটনাস্থলের আলামত জব্দ তালিকায় তৃতীয় স্বাক্ষী বানায় গার্ড সুনীলকে। সেই সময় সিসিটিভির ফুটেজে থাকা হামলাকারীদেরকে সে চেনে কি না! তা যাচাই করার জন্য পুরো সিসিটিভির ফুটেজ তাকে দেখান পুলিশের সিআইডি ইউনিটের সদস্যরা। সেই সিসিটিভির ফুটেজ অনুযায়ী সুনীল ঘটনার বিবরণ দেন।

গার্ড সুনীল আরো বলেন, ঘটনার দিন সকালে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে দেখি ইউএনও স্যার ও তার বাবাকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হচ্ছে। সে সময় ইউএনও’র বাবা রক্তাত্ত অবস্থায় ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, পাশের ঘর থেকে আমার মেয়ে চিৎকার করে বলেছিল দেখো তো বাবা আমার ঘরে এটা কোন বেয়াদব ঢুকেছে। তার এই কথা শুনে আমি পাশের ঘর থেকে মেয়ের ঘরে ছুটে গেলে হামলাকারীরা আমার ঘাড়ে আঘাত করে। আমি মেঝেতে পড়ে গেলে আমার পায়েও আঘাত করে হামলাকারীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads