নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বিচারে ফাউন্ডেশনের ভেতরের ফলজ ও বনজ গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্দ হয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন।
লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, ফাউন্ডেশনের ভেতরে অডিটোরিয়াম (মিলনায়তন) সহ কয়েকটি ভবন নির্মানের জন্য ৯০ কোটি টাকার দরপত্র করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। দরপত্রের কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মানের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এ কারনে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বন বিভাগের মাধ্যমে অনুমোদন নিয়ে ৪৪টি গাছ দরপত্রের মাধ্যমে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন নিয়ে গত তিনদিন ধরে ঠিকাদার শ্রমিকদের মাধ্যমে গাছগুলো কেটে নিয়ে বিভিন্ন করাত কলের মালিকদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা ফাউন্ডেশনের ভেতরের বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ নির্বিচারে কেটে ট্রাকযোগে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব গাছের নিচে রোদের সময় দেশ বিদেশের পর্যটকরা বসে বিশ্রাম নিতেন।
গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত শ্রমিক আলা উদ্দিন মিয়া জানান, ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মালিক এসব গাছ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির সাধারন সম্পাদক ফিরোজ আহাম্মেদ জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে ফাউন্ডেশন বন্ধ থাকার সুযোগে কর্তৃপক্ষ ফাউন্ডেশনের সোন্দর্য নষ্ট করে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করছে, গাছ কাটা বন্ধ না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। এভাবে বৃক্ষ নিধন করে অপরিকল্পিতভাবে মিলানায়তন নির্মানের কোনো প্রয়োজন নেই।
লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক আহমদ উল্লাহ জানান, মিলানায়তনের জন্য ভবন নির্মানের এ প্রকল্পটির স্থান নির্ধারন আমি ফাউন্ডেশনে যোগদান করার আগের পরিচালক করেছিলেন। আমি গাছ কাটার পক্ষে নই কিন্তু আগে থেকে ভবন নির্মানের স্থান নির্ধারিত থাকায় গাছ কাটতে হচ্ছে।





