নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় সন্ত্রাস নৌ-চাঁদাবাজী ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে শাস্তি ও গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসীরা। আজ রোববার উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে সামনে এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভবনাথপুর, জৈনপুর, ছয়হিস্যা ও কান্দারগাঁও গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন ও তার সহযোগিরা দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীতে চলাচলরত বিভিন্ন নৌযান থামিয়ে চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যুতা, নিরীহ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আসছে। তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকায় সাধারণ মানুষ বসবাস করতে পারছে না।
ভবনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে তার সহযোগি সৈকত হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মিজানুর রহমান, সবুজ মিয়া ও শাহীন হোসেনের নেতৃত্বে একদল যুবক পূর্বশত্রুতার জের ধরে তার (ফাতেমা বেগম) মেয়ে হামিদা বেগমের শ্বশুর বাড়ি জৈনপুর গ্রামে গিয়ে মেয়ে হামিদা বেগম ও তার দুই শিশু সন্তান সুমাইয়া (১৪) ও সুরাইয়া (১১) কে বেধড়ক মারধর করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় হামিদা বেগমের এক চোখ নষ্ট হয়ে গেছে এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
স্থানীয় ভবনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন জানান, জাকির হোসেন ও তার সহযোগিদের চাঁদাবাজির কারণে মেঘনা নদীতে চলাচলরত নৌযান মালিক শ্রমিকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে কয়েকশ নারী-পুরুষ জাকির হোসেন ও তার সহযোগিদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেন। এসময় নারী ও বৃদ্ধ লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন জানান, আমি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করিনি। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





