সোনারগাঁয়ের লাধুরচর ও ঝালোকান্দির মধ্যবর্তী স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর একটি সেতু না থাকায় জামপুর ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের প্রায় ২০ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ লাখো মানুষের প্রতিদিন ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপারের এ মাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো ও নৌকা। এই নদে শুস্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো ও বর্ষায় মৌসুমে নৌকা ছাড়া নেই কোন বিকল্প ব্যবস্থা। স্থানীয়দের দাবি ব্রহ্মপুত্র নদের উপর সেতু না থাকায় এলাকাবাসী চাঁদা তোলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দুই ইউনিয়নবাসীর ২০ গ্রামের মানুষ র্দীঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ও নোয়াগঁও ইউনিয়নের বরুমদী, ঝালোকান্দি, নাগেরকান্দি, কদমতলী, বশিরগাঁও, গোবিন্দপুর, চরপাড়া, লাধুরচর, মুকিমপুর, মহজমপুর, তালতলা, শেখের হাট ও শেখকান্দিসহ প্রায় ২০টি গ্রামের শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধীক মানুষের পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের উপর সেতু নিমার্ণের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও কোনো কাজে আসেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে অনেক। যাতায়াতে নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী মহিলাদের। চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীদের আধাঘন্টার পথ বাধ্য হয়ে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে অর্থ ও সময় ব্যয় করে মৃত্যুও ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবার জন্য যেতে হচ্ছে হাসপাতালে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর আশপাশেই রায়েছে মহজপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বুরুমদী উচ্চ বিদ্যালয়, লাধুরচর ইসলামিয়া মাদ্রাসা, গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বুরুমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ঈদগাহ। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে পারাপারে অতঙ্কের মধ্যে প্রায় দুঘর্টনার শিখার হচ্ছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসার পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। এলাকাবাসী দ্রুত এ স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের কাছে।
গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী আয়শা আক্তার বলেন, অনেক দিন আগে সাঁকো থেকে পড়ে আমার হাত ভেঙ্গে গেছে। আমার ব্যাগে থাকা সকল বই পানিতে বিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
মাদ্রাসার ছাত্র আলী হাসান বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হওয়ার সময় পরে অনেক ব্যাথা পেয়েছি। যদি মাঝ খানে পরতাম তাহলে পানিতে ডুবে হয়ত মরে যেতাম।
স্থানীয় কবি জামান ভূঁইয়া বলেন, এ এলাকায় বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ হয় অনেক বেশি। এখানকার সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পুরণ করে। ব্রহ্মপুত্র নদের লাধুরচর ও ঝালোকান্দি এলাকায় সেতু না থাকায় স্থানীয় সবজি চাষিসহ সকল ধরনের ব্যবসায়ীরা অনেক আর্থিক লোকসানে পড়ছেন। সরকারের কাছে র্দীঘদিনে প্রাণে দাবী এখানে যেন দ্রুত একটি সেতু নিমার্ণ করা হয়।
লাধুরচর গোবিন্দপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পাশে আমাদের মাদ্রাসা ও পাশেই একটি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। মাদ্রাসা ও স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে পারাপারে অনেক দুঘর্টনার শিকার হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এই স্থানের দুই পাশেই সংযোগ রাস্তা রয়েছে। তাই এখানে দ্রুত সেতু নিমার্ণ হলে ছাত্র ছাত্রীসহ স্থানীয়দের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে্েক্্রর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সজিব রায়হান বলেন, রোগীদের হাসপাতালে নিতে গেলে নদী পারাপার হয়ে রাস্তায় তাদের অবস্থা আরও বেশি খারাপ হয়ে যায়।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান জানান, দুইটি ইউনিয়নের মানুষ ওই স্থান দিয়ে চলাচল করে। সেতুটি নির্মাণের জন্য স্থানীয় এমপিকে বলা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে জেনেছি।
সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরজুরুল হক বলেন, গত বছর অক্টোবর মাসে সেতুটির প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সেতুটির প্রস্তাবটি পাশ হলে নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো।





