সোয়া লাখ হেক্টরের ফসল নষ্ট

সংগৃহীত ছবি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

সোয়া লাখ হেক্টরের ফসল নষ্ট

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ২৪ জুলাই, ২০১৯

বোরোর দামে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কৃষকরা এবার বন্যার কারণে আমন নিয়েও ক্ষতির মুখে পড়লেন। আমন রোপণের এই সময়ে দেশের ২৮ জেলায় বন্যার পানিতে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা ও ফসলি জমি। তথ্যমতে, সারা দেশে ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল এরই মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর প্রায় অর্ধেকই শুধু ধানের বীজতলা ও ফসলি জমি হওয়ায় এ বছর আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে বড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও শাকসবজি ও মাঠে থাকা আখ-পাট নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে বাজারে এসবের দাম বেড়ে গেছে। আর দীর্ঘ সময় পানি না নামার কারণে বেশ কিছুদিন দণ্ডায়মান ফসলও এখন প্রায় শতভাগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, দেশের চলমান বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

মূলত উজান থেকে আসা ঢল ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা হচ্ছে। তবে ওইসব বন্যা ৩ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। কিন্তু এবার বন্যার স্থায়িত্ব এলাকাভেদে প্রায় এক মাসেরও বেশি। বেশির ভাগ এলাকায় দুই সপ্তাহ পার হলেও বন্যার পানি নামেনি। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা আরো বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, বর্তমানে মাঠে আমন মৌসুমের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আখ ও পাট রয়েছে। এর মধ্যে বীজতলার ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি, আমন উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বন্যার পানি নামার পরেও আমনের বীজতলা করা সম্ভব।

অন্যদিকে ক্ষেতে এখন যে সবজি নষ্ট হচ্ছে সেটা একটি বড় প্রভাব ফেলছে বাজারে। কারণ বন্যার পানিতে ডুবে সবজি, কাঁচামরিচ পচে যাচ্ছে। যদিও বন্যার কারণে আখ ও পাটের খুব বেশি ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে বন্যার পানি দীর্ঘমেয়াদি হওয়াটা নতুন দুশ্চিন্তার কারণ।

অধিদপ্তরের তথ্যে, দেশে ২৮ জেলায় এ পর্যন্ত সোয়া ১ লাখ হেক্টর ফসলি জমির আমন বীজতলা ও শাকসবজির শতভাগ নষ্ট হয়েছে। এ বছর সারা দেশে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৩২ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল, যার মধ্যে বন্যাপ্লাবিত এলাকায় ছিল ৯২ হাজার ৩০১ হেক্টর। ওই জমির ১৩ হাজার ৪৪৬ হেক্টর বীজতলা ইতোমধ্যে নষ্ট হয়েছে বন্যার কারণে। এ ছাড়া বন্যাপ্লাবিত এলাকাগুলোর ৮৬ হাজার ৮১ হেক্টর জমির শাকসবজিগুলোর মধ্যে পচে গেছে ১৩ হাজার ৩১৩ হেক্টরের শাকসবজি। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার হেক্টরের মরিচ ও অন্যান্য ফসল দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে মাঠে থাকা ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৫৮ হেক্টর জমির পাটের মধ্যে ৩৮ হাজার ১৩৩ হেক্টর জমির পাট প্লাবিত হওয়ায় এখনো কাটা সম্ভব হয়নি। এসব পাটের গুণগত মান তুলনামূলক খারাপ হবে।

এসব বিষয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন) কৃষিবিদ আবদুল মুঈদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দ্রুত পানি না নামায় এ বছর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকাসহ সারা দেশের আমন ও শাকসবজি আবাদ বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্যা এলাকায় প্রতিটি উপজেলায় ১০০টি ভাসমান ও আপৎকালীন বীজতলা তৈরি করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি অধিদপ্তরের তালিকায় এ পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, দিনাজপুর, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নওগাঁ, রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নোয়াখালী, ফেনী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads