টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এডিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা করার নামে হরিলুট করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুর রহমান তমিজি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টি অনেক দিনের পুরনো হওয়ায় গ্রামের বেশিরভাগ অভিভাবক নিজেদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য এই স্কুলে পাঠান। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনার নামে কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে অর্থ আত্মসাতে ব্যস্ত হয়ে আছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বিপুল অর্থ নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের একজন অভিভাবক বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টা অনেক ভালো ছিল। এই প্রধান শিক্ষক তার সুবিধা মত কাজ করার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে আঁতাত করে নিজেদের পকেট ভারী করছে। তাদের অপকর্মের কারণে স্কুলের বারোটা বেজে যাচ্ছে। যোগ্য শিক্ষকদের সহকারী প্রধান শিক্ষক না করে যাকে ইচ্ছে তাকে ধরে এনে সহকারী প্রধান শিক্ষক বানানোর চেষ্টা করে তারা।
এর প্রধান কারণ হলো- বিপুল পরিমাণে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য। সব শেষ কয়েক মাস আগে, স্কুলের আয়া, ঝাড়ুদার ও নৈশ প্রহরী নিয়োগে বিপুল পরিমাণে টাকা নিয়ে হাতে নাতে ধরা খেয়েছে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ। এ ঘটনার একাধিক ভিডিওতে ধরা পড়েছে।
খাটিয়ার ঘাটের এডিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, গত মার্চের দিকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে হাতে নাতে ধরে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই ভিডিওতে দেখা যায় প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কোনোভাবেই আটকে রাখা যায়নি তাদের।
তিনি বলেন, এছাড়া জাতীয় শিক্ষাক্রম এনটিআরসি অনুযায়ী বেতন করিয়ে দেয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ৬০ হাজার করে টাকা নিতে দেখা যায়। এর বাইরে আরও মোটা অঙ্কের টাকা নেয়ার খবর ছড়িয়েছে। স্কুলের দেয়া শিক্ষা বোর্ডের পিডিজিএসআই প্রজেক্টের টাকা ঠিকমত বিতরণ না করে আত্মসাৎ করে আসছেন এই দুইজন।
‘স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে ইতোমধ্যে একজনের কাছ থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই নিয়োগ বাণিজ্য চক্র। তবে সহকারী প্রধান শিক্ষক বানিয়ে দেয়ার জন্য ১২ লাখ টাকা নেয়ার কথা ভিডিওতে স্বীকার করেছেন তারা। প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে সর্বনিম্ন ১৫শ এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকাও নিয়ে থাকেন এই দুই শীর্ষ পরিচালনা কমিটির সদস্য।
তবে সবকিছুর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলের ভিডিওতে দেখা যায় তিনি কিছু দোষ নিজেদের ওপর নিলেও বাকি দোষ বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুর রহমান তমিজি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদকে একাধিকবার ফোন করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।





