সারা দেশ

স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর উপর নৌকা সমর্থকদের হামলা,ক্যাম্প ভাঙচুর

  • ''
  • প্রকাশিত ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

আকরামুজ্জামান আরিফ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আনোয়র তনুর ‘ঈগল’ প্রতীকের কর্মীর উপর হামলা করেছে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরা। হামলায় গুরুত্বর আহত অবস্থায় বুলবুল আহম্মেদ সাগর(২৪) নামে ঐ কর্মীকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল প্রতীকের ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্বে আছেন।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ঝাউদিয়া বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

এছাড়াও সোমবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া পৌরসভার ২১ নং ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে সেখানে নৌকার ক্যাম্প স্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে ঐ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেল রানা আশার বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় কুষ্টিয়া পৌরসভার আড়–য়াপাড়ার মনির উদ্দিনের ছেলে মোঃ শামীম শেখ বাদী হয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়ন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক সাগর একটি ইজিবাইকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে যায়। সেখানে অটো থামিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলী বিশ্বাস,বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি মেহেদী হাসান,জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামানসহ ১০ থেকে ১২ জন দলীয় ক্যাডাররা তার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে।

আহত বুলবুল আহম্মেদ সাগর বলেন,প্রথমে তারা এসে অটোর চাবি কেড়ে নেই। এই সময় একটি মাইক্রোবাসে আমাকে জোরকরে তুলে নেই। আমি গাড়ির ভেতরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলী বিশ^াস, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামানকে দেখতে পাই। গাড়ির ভেতরে মারতে মারতে আমাকে পাশের গ্রামের বৈদ্যনাথপুর শ্মশানে নিয়ে যায়। সেখানেও আমাকে বাটাম দিয়ে মারধর করে। এ সময় চেয়ারম্যান মেহেদী আমাকে হুমকি দিয়ে বলে এ কথা কাউকে বললে ‘আমরা দিন দুপুরে মানুষ খুন করি’তোকেও মেরে ফেলবো।

রাশেদ নামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আরেক কর্মী জানান,ঘটনার পর স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেইনি। উল্টো ভাবটা এমন যে আমাদেরকেই ধরে নিয়ে যাবে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুকউজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মামুন রহমান বলেন,স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় ছিলেন। তাই তাকে নিষেধ করেছিলেন। তাছাড়া কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতালে একজন ভর্তি রয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এখনো কেউ অভিযোগ দেইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আনোয়র তনু বলেন, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন নৌকা প্রতীকের কর্মি সমর্থকরা কোন প্রকার নির্বাচনী আচরণ বিধি মানছেন না। উল্টো আমাদের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করছে এবং আমাদের কর্মির উপর হামলা করছে। লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। আমি সুষ্ট নির্বাচনের জন্য আমরা এই সমস্ত অনিয়মের প্রতিকার চাই।

এ বিষয়ে জাসতে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান সুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads