লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট ২ (আদিতমারী - কালীগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর কর্মী সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর অনিয়ম নিয়ে তাঁর ছোট ভাইয়ের বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে কালীগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগলপাখি) জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি সিরাজুল হক এর কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সভায় নৌকার প্রার্থী সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এর নানা অনিয়ম নিয়ে বক্তব্য দেন মন্ত্রীর আপন ছোট ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ। তার ওই বক্তব্য এখন ভোটারদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে।
স্বতন্ত্রপ্রার্থীর কর্মী সভায় মন্ত্রীর ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ বলেন, ' দীর্ঘ ১৩ বছর এমপি - মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে নুরুজ্জামান আহমেদ নিজের আখের গুছিয়েছেন। তার নিজস্ব গুটি কয়েক নেতাকর্মীর ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, কিন্তু দীর্ঘ এক যুগেও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন খোঁজ রাখেন নি। সভায় উপস্থিত সহস্রাধীক নেতাকর্মীদের সামনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির টিআর, কাবিখা, সরকারি অনুদান, অসুস্থ্য রোগীদের চিকিৎসার চেক বিতরণ, সরকারি ভাতা প্রাপ্তি সহ নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন তিনি। এসময় সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চার পাশ। সভায় অন্যান্যোর মধ্যে আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস, ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব ওমর চিসতি সহ মুল্যায়ন থেকে বঞ্চিত নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সাধারণ ভোটাররা নৌকার সাথেই আছেন। এই আসনে বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হবে। কারো বিরোধীতায় নৌকা মার্কার ভোটে কোন প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি দাবী করেন।
তবে সাধারণ ভোটাররা জানান, দীর্ঘদিন থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তার ছোট ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ এর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। টানা ৩বার এমপি ও দুই বার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেও আপন ছোট ভাইয়ের সাথে বিরোধ মেটাতে পারে নি মন্ত্রী। ঘর সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দিন দিন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব। যার প্রভাব পড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।





