মহান স্বাধীনতার উত্তাল মাস মার্চ। বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্থপতি শহীদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ত্রিশ লক্ষ তাজা প্রাণ এবং দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জজতের বিনিময়ে হানাদার পাকিস্তানিদের জুলুম, নিপীড়ন, নির্যাতন ও শোষণ থেকে আজকের বাংলাদেশ ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা অর্জন করে। দীর্ঘ নয় মাস তুমুল সংগ্রাম, আন্দোলন আর যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীন মানচিত্র ছিনিয়ে আনে। সব ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার লাল-সবুজের পতাকা এ জাতি অর্জন করে। সালাম ও শ্রদ্ধা ভরে তাদের আত্মার স্মরণ করছি আজকের এ দিবসে।
বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে হয়তো এত সহজে এ স্বাধীনতা অর্জন করা যেত না। মহান এ নেতার আত্মত্যাগ সপরিবারে তাকে শহিদ করার মাধ্যমে স্বাধীনতা বিরোধী সেই বেঈমান গোষ্ঠী আরেকটি কালো অধ্যায়ের ইতিহাস রচনা করে গেছে। আজকের এদিনে ওই কুখ্যাত খুনিদের ধিক্কার জানিয়ে বাংলার আপামর জনতার নেতা স্থপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি অজস্র সালাম ও শ্রদ্ধা।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে আজ জাতি পা রাখছে। অর্ধ শতকের এ সময়ে বাঙালি জাতির অর্জন প্রাপ্তি ও তৃপ্তি নিয়ে দুটি কথা না বলে পারছি না। তৃপ্তি ও আনন্দের কথা হলো মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আজকের বাংলাদেশ শিক্ষা দীক্ষা উন্নয়ন অগ্রগতিতে রেমিট্যান্সের আয় আসাধারণ সফলতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আজ উন্নয়নের সঙ্গে শহর গ্রাম সবখানে শিক্ষার মশাল ঘরে ঘরে জ্বলছে। উন্নয়নের অব্যাহত গতি শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। লাখো কোটি টাকার বাজেট স্বাধীন বাংলাদেশের পবিত্র সংসদে আজ পাস হচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদুৎ, শহর আর গ্রাম কোনো পার্থক্য নেই। তথ্যপ্রযুক্তিতে আজকের তরুণ প্রজন্ম দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষা আর তথ্যপ্রযুক্তি এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাতের নাগালে। প্রায় আঠারো কোটি জনগণের খাদ্যের কোনো ঘাটতি এখন জনগণ দেখছে না। উৎপাদন, বিপণন, বাজার সবদিকেই দেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে। পদ্মা সেতুর মতো মেগা বিশাল অর্থের প্রজেক্ট বাংলাদেশের সৎ ও সাহসী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে দেশব্যাপী হাজার হাজার কোটি টাকার নানা প্রকল্প এখন বাস্তবায়ন অব্যাহত আছে। এ তৃপ্তির সাধুবাদ না জানানো একটি মানসিক রোগ ছাড়া কিছুই না। জাতীয় উন্নয়ন মানবকল্যাণে সব ধরনের কর্মসূচির প্রতি জাতির নিরঙ্কুশ সমর্থন ও সহযোগিতা রয়েছে। চিকিৎসা সেবাসহ আরো অসংখ্য সফলতার দৃষ্টান্ত বলতে গেলে বলা যায়।
তবে কিছু কিছু বিষয় জনগণের অতৃপ্তি অনুভূত হয়। ভোট, নির্বাচন, জনপ্রতিনিধি সিলেকশনে জনগণের মতামত শ্রদ্ধার সঙ্গে রাখতে হবে। স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের ধারা, উপধারায় দেশ চালিয়ে নিলে বর্তমান সরকার আরো প্রশংসিত হতো। নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার, শিশু ও বয়ঃজ্যেষ্ঠ নাগরিকের প্রতি আরো যত্নবান হওয়া দরকার। জনগণের মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যকে আরো স্বচ্ছ ও সহজ করতে হবে। ছিন্নমূল গৃহহীন মানুষের মিছিল যেন না বাড়ে সেদিকে যত্নবান হতে হবে। দেশের ভোগ্যপণ্য, নিত্যপণ্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চায় জনগণ। রাষ্ট্রের সব সেক্টরের নজরদারির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশের ভূমিকা আরো স্বচ্ছ জবাবদিহি ও জনবান্ধব করতে হবে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো অবস্থায় সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো অবস্থায় তাদের কতিপয় লোকের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আইনবহির্ভূতভাবে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
সবশেষে বলব, দেশের জনগণের যে ক্ষমতা ও নাগরিক অধিকার, অনুরূপভাবে রাষ্ট্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একই নিয়মে চলতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির কল্যাণে রাতদিন যেভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, অনুরূপভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও জাতি পেতে ও দেখতে চায়। তাহলেই আজকের দিনের মহান স্বাধীনতা দিবস তথা স্বাধীনতার ৫০ বছর সার্থক ও চিরস্থায়ী হবে।
লেখক : মাহমুদুল হক আনসারী
প্রাবন্ধিক





