স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে রাজধানী ছাড়ল লাখো মানুষ

ছবি: বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে রাজধানী ছাড়ল লাখো মানুষ

  • মোহসিন কবির
  • প্রকাশিত ৫ এপ্রিল, ২০২১

সারা দেশে এক সপ্তাহের লকডাউনের খবরে ২ এপ্রিল থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন কর্মজীবী মানুষ। কেউ সপরিবারে, কেউ কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়েছেন। রোববারও রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট, মাওয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এসময় অনেককে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেলেও স্বাস্থ্যবিধির অন্যতম শর্ত দূরত্ব বজায় রাখার বালাই ছিল না কোথাও। দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ এমনকী বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ রুটের টার্মিনালেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত।

গতকাল সকালে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় চাঁদপুর, ভোলা, নড়িয়া, সুরেশ্বর, মোহনপুর, চন্ডিপুর, নোমরহাট, গঙ্গাপুর ও দুলারচরসহ বিভিন্ন রুটের লঞ্চগুলো যাত্রী বোঝাই করে সদরঘাট থেকে ছেড়ে যেতে। এসময় ঘাটে ও কিছু লঞ্চে মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সচেতন করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী কম যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি মানেনি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ৬০ শতাংশ ভাড়া ঠিকই আদায় করেছেন। 

সুরেশ্বরগামী লঞ্চের কালাম নামের এক যাত্রী জানান, লকডাউনের মধ্যে তেমন কোনো কাজ-কর্ম থাকবে না, তাই সময়টা গ্রামে গিয়ে কাটানোকেই শ্রেয় মনে করছেন তিনি। চাঁদপুরগামী এক যাত্রী জানান, ঢাকায় তিনি একটি অভিজাত  শপিংমলের একটি ব্র্যান্ডশপে চাকুরি করেন। তিনি জানান, লকডাউনের সময় ৭ দিন দোকান বন্ধ থাকবে। তাই এই সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে গ্রামে যাচ্ছেন তিনি।

লঞ্চগুলোর ডেকে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি কর্তৃপক্ষকে। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের প্রায় সবারই দাবি, নিয়মানুযায়ী তারা অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করছেন। চাঁদপুরগামী সোনারতরী লঞ্চের টিকিট বিক্রেতা হারুন বলেন, অন্যদিনের চেয়ে আজ বেশি চাপ। বেশি যাত্রী থাকলেও আমরা অর্ধেক যাত্রী নিয়েই যাচ্ছি। তবে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে কারো কারো দাবি, ঢাকায় ফেরার সময় লঞ্চগুলোকে অনেক কম যাত্রী নিয়ে ফিরতে হয়। তাই কিছুটা বাড়তি যাত্রী না নিলে পোষাতে পারছেন না তারা। অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানান, ‘লকডাউনের খবরে এখন কেউই আর ঢাকায় আসার যাত্রীর পরিমাণ একেবারেই কমে গিয়েছে। সবাই এখন ঢাকা থেকে যাচ্ছে।’

এছাড়া, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ ভাড়া আদায় করছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। বর্ধিত ভাড়া আদায় করলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। নেই কোনো সামাজিক দূরত্বের বালাই। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে-এই নৌরুটে অতিরিক্ত লঞ্চ চলাচল করলেও যাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব মানছে না। আর পাল্টা অভিযোগ করছে যাত্রীরা। যাত্রীরা বলছে-লঞ্চ কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের সুপারভাইজার নুরুল আনোয়ার মিলন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৮ টি লঞ্চ চলাচল করছে। আমরা সরকার ঘোষিত নিয়ম মেনেই ভাড়া আদায় করছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাচ্ছেন না। আমরা বললেও তারা শুনছে না। আর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এটাতো মানার কথা। আমি বিষয়টি এখনি দেখে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো’।

এদিকে, একটি বড় অংশের মানুষ ঢাকা ছাড়েন সড়কপথে। এসময় যাত্রীদের বাড়তি চাপের কারণে দূরপাল্লার বাসগুলোতে বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়া আদায় হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত প্রতিপালন হয়নি।   

লকডাউনের খবরে ঈদের মতো যাত্রীরা বাস টার্মিনালে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় বাস মালিকদের অনেকটা পোয়াবারো। বাসের টিকিট কাউন্টারগুলো থেকে জানানো হয়, চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। দর্শনা পরিবহনের ম্যানেজার জাকির স্বপন জানান, শনিবার রাতে যাত্রীর চাপ আজকের (রোববার) চেয়ে অনেক বেশি ছিল। বাস কোম্পানির মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার রফিকুল হোসেন কাজল জানান, মূলত দিনমজুর শ্রেণির মানুষই লকডাউনকে সামনে রেখে ঢাকা শহর ছাড়ছেন বেশি।

এদিকে, যাত্রীদের অভিযোগ, স্বল্প ও দূরপাল্লার বাসগুলোতে দুই সিটে এক যাত্রী বহনের শর্ত কেউই মানছে না। উল্টো প্রত্যেক আসনে যাত্রী নেওয়ার পর দাঁড় করিয়েও যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার অদূরে সাভারের জিরানি থেকে মাহদি হাসান নামের এক যাত্রী ঢাকায় এসেছিলেন আদালতে তার বড় ভাইয়ের মামলার বিষয়ে। মামলার কাজ সেরে রোববারই তাকে আবার ঢাকায় ফিরতে হবে। তিনি জানান, জিরানি থেকে গাবতলী আসতে তার কাছ থেকে ৫০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু তার পাশের সিটেও যাত্রী বসিয়েছে বাসের কন্ট্রাকটর। বিষয়টির প্রতিবাদ করলে উল্টো তাকে বাস থেকে নেমে যেতে বলা হয়।  

এদিকে, রোববার ঢাকার অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানে চলাচলকারী যাত্রীদের লম্বা লাইনের চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও বিমান যাত্রার জন্য চেক-ইন লাইনে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত। তবে প্রায় সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads