করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এক সপ্তাহের লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে থাকা হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর অধিকাংশই ছিল খোলা। লকডাউনে বসে খাওয়ার অনুমতি না থাকলেও এসব রেস্তোরাঁয় মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। মিরপুর, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, বাড্ডা এলাকায় ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বনশ্রীর ভাই ভাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা গেল গেট দড়ি দিয়ে আটকানো। ভেতরে বসে খাচ্ছেন অনেকেই। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কেউ খাচ্ছেন। হোটেলটির মালিক আফজাল হোসেন জানান, হোটেলের ভেতরে বসিয়ে খাবার দেওয়া নিষেধ থাকলেও সবসময় মেনে চলা সম্ভব হয় না। কারণ যারা বাসায় খাবার নিয়ে যান তারা পার্সেল নিচ্ছেন। কিন্তু যারা বাইরে থেকে এই এলাকায় বিভিন্ন কাজে আসেন তারা তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে খেতে পারেন না। তিনি বলেন, লকডাউনে এমনিতেই হোটেলে কাস্টমার কম, তাই ভেতরে বসে খেলেও সমস্যা হয় না। কাস্টমাররা নিজেরাই গেটের দড়ির নিচ দিয়ে এসে হোটেলে ঢুকে পড়ছেন।
মিরপুরের মুসলিম বাজারের একটি খাবার হোটেলের মালিক আলতাফ হোসেন বলেন, এখানে নিম্ন আয়ের মানুষজন খেতে আসে। এদের অনেকেই দোকানের কর্মচারী, কেউ রিকশা চালায়, কাজ করে খায়। দুপুরে বাসায় গিয়ে খাওয়ার সময় বা পরিস্থিতিও হয়তো নেই। তারা খাবে কোথায়? তাদের তো দাঁড়িয়ে খাবার খেতে দিতে পারি না।
খিলগাঁওয়ের নান্না বিরিয়ানিতেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এখানে আগে যেভাবে কাস্টমাররা খেতে বসতেন, এখনো সেভাবেই বসে খাচ্ছেন। হোটেলটিতে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। সবকিছুই আগের মতোই চলছে। হোটেলটির মালিক ফারুক জানান, করোনার শুরু থেকে এক বছর ধরে ব্যবসা নেই। খুব কষ্ট করে ৭/৮ জন কর্মচারী নিয়ে হোটেল চালাচ্ছি। এখন কাস্টমারদের বসতে না দিলে ব্যবসা চলবে কীভাবে।
বনশ্রীর আরেক হোটেল আল্লার দান বিরিয়ানি। সেখানে হোটেল কর্মচারীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিরিয়ানি বিক্রি করছেন। এলাকার অনেক বাসায় বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে যাচ্ছেন। তবে পার্সেল বিক্রির পাশাপাশি হোটেলে বসেও বিরিয়ানি খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। অর্থাৎ সবকিছুই আগের মতো চললেও লকডাউনে বিরিয়ানির পার্সেল বেড়েছে বলে জানালেন কর্মচারীরা।
তবে লকডাউনে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলেও রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে নজরদারি করার কোনো ব্যবস্থা দেখা গেল না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বিশেষ টিম পরিচালনারও উদ্যোগ দেখা গেল না। অথচ রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে করোনা বিস্তারের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ বলা যায়।





