হবিগঞ্জে বিএনপি পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৭০

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

রাজনীতি

হবিগঞ্জে বিএনপি পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৭০

  • ফয়সল চৌধুরী, হবিগঞ্জ
  • প্রকাশিত ২২ ডিসেম্বর, ২০২১

হবিগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আজ বুধবার দুপুর দুইটা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। টানা এক ঘণ্টা এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় পুলিশ অন্তত অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে পুলিশ, বিএনপি নেতাকর্মীসহ কমপক্ষে ৭০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ তুষারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত (বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত) ৭ জনকে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সমাবেশের আয়োজন করে জেলা বিএনপি। শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় দলীয় কার্যলয়ের সামনে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জয়নাল আবেদীন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বেলা দুইটার দিকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে রওয়ানা হয়। এ সময় শায়েস্তানগর পয়েন্টে তাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। বিকেল পৌনে তিনটা পর্যন্ত টানা সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে আহতদের হবিগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জিকে গউছ বলেন, পুলিশ সমাবেশ পণ্ড করতে সকাল থেকেই তাদের প্যান্ডেল গুঁড়িয়ে দিয়েছে। জেলা বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ স্থলে আসার সময় বিভিন্ন স্থানে পুলিশ তাদের বাঁধা দিয়েছে। শহরের শায়েস্তানগরে বাঁধা দিলে নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের নিয়ে আসেন। এ সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে তাদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনই সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা আক্তার শিমুল জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে কোন বাঁধা দেওয়া হয়নি। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল। হঠাৎ বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে ২৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কি পরিমাণ রাবার বুলেট বা টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads