হলে সিট চাই না, একটু মাথা গোঁজার ঠা‍ঁই চাই

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ক্যাম্পাস

হলে সিট চাই না, একটু মাথা গোঁজার ঠাই চাই

  • জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৯ মার্চ, ২০২০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের হল বরাদ্দ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ছাত্ররা কোনোরকমে হলের গণরুমে ঠাঁই পেলেও ছাত্রীরা হয়েছে বঞ্চিত। হল বরাদ্দ না পেয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া হাজারো নবীন ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রী হলগুলোর সামনে দায়সারা ভাবে টানিয়ে দিয়েছে নোটিশ। তাতে লেখা ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত (৪৯ ব্যাচ) ছাত্রীদের হলে আসন সংকট থাকায় হল বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য আমরা দুঃখিত। এ চিত্র দেখে রীতিমতো হতাশ ও ক্ষুদ্ধ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা নবীন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা। তাদের দাবি প্রশাসন হল বরাদ্দ দিতে পারবে না, তো আগে থেকে কেন জানানো হয় নি। এখন এই অবস্থায় কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো। হলে সিট চাই না, একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই।

পাবনা থেকে নবীন ছাত্রী শায়লা আক্তার ক্যাম্পাসে এসেছেন তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে। এক রকম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শুনেছিলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটু পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। মনে অনেক প্রানবন্ততা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে রীতিমতো হতাশ হয়েছি।

লালমনিরহাট থেকে জিমু আক্তার নামে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী বলেন, অনেকদূর থেকে রাতে জার্নি করে এসেছি। এসে দেখি হলে থাকার জায়গা নাই। এমতাবস্থায় কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না।

রেজাউল করিম নামে একজন অভিভাবক বলেন, মেয়ে নিয়ে এসেছি। হাতে তোষক-বালিশ। প্রশাসন সিট না দিলে মেয়েকে নিয়ে এখানে সামিয়ানা টানিয়ে থাকবো।

এদিকে যেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাসে প্রশাসনের র্যাগিং বিরোধী র্যালি করার কথা। সেখানে নবীন শিক্ষার্থী শূণ্য ক্যাম্পাসে প্রশাসন আয়োজন করেছে র্যাগিং বিরোধী র্যালি। র্যালি দেখে রীতিমতো ক্যাম্পাসে সমালোচনায় শোরগোল পড়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, যেখানে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিং বিরোধী র্যালি করেছে! যা আসলেই লজ্জার বিষয়।

প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীন আচরণে ক্ষুদ্ধ ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছাত্রীদের হলগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী সেশনজটের কারণে বের হতে পারছে না। অনেকের মার্স্টাস পরীক্ষা শেষ হয় নি। ফলে সিট সংকট তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় আপাতত কোনে ব্যবস্থা হচ্ছে না। তবে উপ-উপাচার্য মহোদয়ের বাসার সামনে ৬টি রুমে ও বেগম সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম, শেখ হাসিনা ও প্রীতিলতা হলে ১৫০ জন ছাত্রীর সাময়িকভাবে থাকার ব্যবস্থা করেছি। আশাকরছি অতিদ্রুত এই সংকট কেটে যাবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads