সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জে এবার বেড়েছে রোপা আমনের চাষ। শেষ সময়ে এখন ব্যস্থ সময় পাড় করছে চাষীরা। অনুকূল আবহাওয়ায় বোরো ধানের চেয়ে ঝুঁকি কম হওয়া ও ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আমান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। গেল মৌসুমের চেয়ে এবার অতিরিক্ত ১০০হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,জেলার ১২টি উপজেলায় রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর, যা অন্য বছরের চেয়ে ১০০ হেক্টর বেশি। ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৮০% জমিতে চারা রোপণ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আর অনুকূল আবহাওয়া ও আমন চাষে কৃষকের আগ্রহ থাকায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার রয়েছে।
জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ধনপুর,দক্ষিণ বাদাঘাট,তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট,উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখে ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা,জাহাঙ্গীর নগর,গৌরারং ইউনিয়ন,জামালগঞ্জের নোয়াগাও,সাচনা, নিয়ামতপুর,ফতেপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,প্রখর রৌধের মধ্যে রোপা আমন চাষে ব্যস্ত রয়েছেন চাষীরা। জমিতে হাল চাষ,সার-কীটনাশক ব্যবহার,বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন,চারা রোপণ,সেচসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে শ্রমিকের মজুরি,জ্বালানি তেল,সার ও কীটনাশকের দাম বেশি থাকায় এবার চাষাবাদ ব্যয় বেশি। এর পরও ধানের ভাল ফলন হলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভবান হওয়ার আশা চাষীদের।
জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগর গ্রামের চাষী শফিক মিয়া জানিয়েছেন,এবার সময়ে সময়ে বৃষ্টিপাত ও বন্যা কিংবা প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় অন্যবারের চেয়ে হাওরে একটু আগে আমন চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এ সাপ্তাহেই বেশির ভাগ হাওরে শতভাগ চাষাবাদ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের মাহমুদ আলী বলেন,তিনি ৬ কিয়ার জমি বর্গা নিয়ে আমন চাষ করেছেন। প্রতি কিয়ার জমিনে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ পড়ছে। আবহাওয়ার অবস্থা ভাল আর ধানের ফলন ভাল হয় তাহলে লাভ করতে পারব।
জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি গ্রামের আমন চাষী মনিরুল ইসলাম বলেন,এখন বীজ,সার,কীটনাশক,ডিজেল আর শ্রমিকের মজুরিও বেশি। সব কিছুই এখন আল্লাহর ইচ্ছা। যদি ফলন ভালা হয়,তাইলে ছেলে মেয়ে নিয়া ভাল থাকমু।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো নয়ন মিয়া জানান,এবার উপজেলায় রোপা আমন ৮৭৭০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হবে,এর মধ্যে ১৫৬৫০জন কৃষক ৮৫৭০হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছে। বাকী জমিতে চাষাবাদ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। চাষকৃত জমিতে ৩৬ হাজার ৫ শত ৪১ মেট্রিকটন টন ধান উৎপাদন হবে,এর আনুমানিক মূল্য ৪কোটি ৬৭লাখ ৭৩ হাজার ৩শত ৩৩ টাকা।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানিয়েছেন, আমন চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষাবাদ হবে। জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৮৩,৩৮০ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা চালের দিক দিয়ে ২ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন আর ধান উৎপাদন হবে ৩ লক্ষ ২১ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। এ সাপ্তাহের মধ্যেই চারা রোপনের কাজ শেষ হবে।





