মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেরার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে গাজী খালি নামক নদী। আর সেই নদীকে ঘিরে গরে ওঠেছে প্রায় চারশত বছরের পুরানো পাল সম্প্রদায় এর বসতি। নদীর নাব্যতা সংকট এর প্রভাব পরেছে পাল সম্প্রদায় তথা মৃৎ শিল্পের উপর। নদী পথে কাঁচামাল আনা এবং নদী পথে বিক্রি না করতে পারায় থরচ বেড়েছে দ্বিগুন। এছাড়া ও বর্তমানে মৃৎশিল্পের বাজার দখর করে নিয়েছে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি তৈজসপত্র। এসব কারণেও সাটুরিয়া থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে মৃৎশিল্প।
সাটুরিয়া বাজার থেকে আধা কিলোমিটার পশ্চিমে গাজীখালি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শত বছরের পুরানো পাল সম্প্রদায়ের বসতি। বর্তমানে এখানে ৪০টি পরিবার এ পেশার সাথে জড়িত। আগে পাল সম্প্রদায়ের সকলেই জড়িত ছিল। নানা প্রতিকুলতার কারণে আনেকে ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে তাদের পারিবরিক পেশা।
মৃৎশিল্পের তৈরীর মূল কাঁচামাল হল এঁটেল মাটি যা সংগ্রহ করা হয় মূলত নদী থেকে, আবার নদী পথেয় তৈরী করা পণ্য বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
গাজীখালি নদীর মুখে চর পরে নদীর নাব্যতা হারানোর ফলে এখন ভরা বর্ষা মৌসুমেও তেমন পানি হয় না। আর এসব প্রভাব পড়েছে সাটুরিয়া উপজেলার পাল সম্প্রদায় তথা মৃৎ শিল্পের উপর। মাটির তৈরী তৈজসপত্র তৈরীর উপযুক্ত এঁটেল মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। নদী পথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহ করে তা আনা এবং তৈরী করা মালামাল গ্রাহকের কাছে সড়ক পথে পৌছাতে খরচ হয় দ্বিগুন।
এ ছাড়াও বর্তমানে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি বিভিন্ন তৈজসত্রের সাথে মাটির তৈরী তৈজসপত্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। ফলে অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছে তাদের পারিবারিক পেশা।
পালপাড়া গ্রামের নকুল কুমার পাল বলেন, আগে হাঁড়ি-পাতিল বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজে আনা যেত এবং তৈরী জিনিস সহজে নদী পথে বিক্রী করা যেত। কিন্তু এখন ভরা বর্ষা মৌসুমেও নদীতে তেমন পানি আসে না ফলে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আনা ও তৈরী করা পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে খরচ হয় দ্বিগুন এর বেশি।
মায়া রাণি পাল বলেন, অন্য কোন কাজ শিখিনি তাই বাধ্য হয়ে একাজ করতেছি। আগে পালপারা গ্রামের সবাই এ পেশায় জড়িত ছিল কিন্তু এখন নানা প্রতিকুলতার কারণে ৪০টি পরিবার এখন এ পেশা ধরে রেখেছে। বাকীরা যে যার মতো অন্য পেশা বেছে নিয়েছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা তাপস পাল বলেন, গাজীখালি নদীর নাব্যতা ফিরে পেলে ও সরকারি কোন সাহায্য-সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা টিকিয়ে রাখতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, আমরা এখনো যারা এ পেশার সাথে আছি তারা খুব কষ্টে টিকে আছি।





