হিমশিম খাচ্ছে ব্লাড ব্যাংকগুলো

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

রক্তের চাহিদা পাঁচগুণ

হিমশিম খাচ্ছে ব্লাড ব্যাংকগুলো

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৮ জুলাই, ২০১৯

সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রক্তের চাহিদাও। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে রক্ত নেওয়ার পরও চাহিদা না মেটায় দ্বারস্থ হচ্ছেন ব্লাড ব্যাংকগুলোতে। ব্লাড ব্যাংকগুলো বলছে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় রক্তের চাহিদা বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। ফলে চাহিদা মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

চিকিৎসকরা বলছেন, একজন স্বাভাবিক মানুষের রক্তে প্লাটিলেটের হার প্রতি ১০০ মিলিলিটারে দেড় লাখ থেকে চার লাখ। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর রক্তের প্লাটিলেট কাউন্ট এক লাখের নিচে চলে আসে। প্লাটিলেট ২০ হাজারের নিচে নেমে এলে কোনো আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণ হতে পারে। নাক বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্তপাত এবং মলের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে। 

ডেঙ্গু হলে অতিরিক্ত রক্ত ও প্লাটিলেটের প্রয়োজন হয়। এক ব্যাগ প্লাটিলেটের জন্য চার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৩০ দিনে রক্তের চাহিদা বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। বেশির ভাগ রোগীর স্বজন পজিটিভ গ্রুপের রক্তের জন্য ভিড় করছেন। তবে নেগেটিভের চাহিদাও কম নয়।

শান্তিনগরের কোয়ান্টাম ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, রিসেপশনে রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল থেকে আনা রক্তের চাহিদাপত্র জমা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পরপর রোগীর নাম ধরে ডাকা হচ্ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী রক্ত কোন দিন এবং কোন সময়ে দেওয়া হবে তা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।  এ-নেগেটিভ রক্তের জন্য সেখানে উপস্থিত হয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমারে সন্তানের ডেঙ্গু হয়েছে। শুক্রবার একটি ব্লাড ব্যাংকে গিয়েছিলাম। সেখানে না পাওয়ায় আজ কোয়ান্টামে এসেছি। তারা কয়েক ঘণ্টা পরে জানাবে বলেছে। 

স্বেচ্ছায় রক্তদান প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টামের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তারেকুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু আক্রান্তদের রক্তের চাহিদা অনেক। গত কয়েকদিন ধরে তা আরো বেড়ে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তদের স্বজনরা রক্তের জন্য ভিড় করছেন। ভয়াবহ অবস্থা, চাহিদা অনুযায়ী সময় মতো আমরা রক্ত দিতে হিমশিম খাচ্ছি। 

কোয়ান্টাম ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক কর্মকর্তা হাসান খান বলেন, চলতি বছরের জুনে আমরা ৫০০ থেকে ৭০০ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করেছি। কিন্তু জুলাইয়ের ২৬ তারিখ পর্যন্ত এ সংখ্যা ৩৫০০-তে গিয়ে ঠেকেছে। ২০১৮ সালের জুলাইতেও হঠাৎ রক্তের চাহিদা বেড়েছিল। ওই বছর এখান থেকে  ২৫০০ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করা হয়।

বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জোনাহি সরদার বলেন, জুলাই মাসে রক্তের চাহিদা প্রায় ৪-৫ গুণ বেড়েছে। আগে প্রতিদিন ৫০-৬০ ব্যাগের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে ১০০ থেকে ১২০ ব্যাগ রক্তের চাহিদাপত্র পাচ্ছি। অতিরিক্ত রক্তের অন্যতম কারণ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, প্রতি মাসে  ২০০ থেকে ৩০০ ব্যাগের চাহিদা থাকলেও গত ৩০ দিনে মোট ১২৫০ ব্যাগ রক্তের চাহিদা পেয়েছি। এর মধ্যে ও-পজিটিভের চাহিদা বেশি। তিনি বলেন, রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের পরামর্শপত্র নিয়ে আমাদের কাছে আসলে আমরা চাহিদা অনুযায়ী রক্ত অথবা প্লাটিলেট সরবরাহ করি। পরামর্শপত্র নিয়ে আগতদের মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাই বেশি।

২০১৮ সালে ১০ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। চলতি বছরের ২৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা নয় হাজার ২৫৬ জন। এর মধ্যে চলতি মাসেই সর্বোচ্চ সংখ্যক সাত হাজার ১১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads