শাবাশ বাংলাদেশ! অবাক পৃথিবী তাকিয়ে রয়- বিশেষ করে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে আজ বাংলাদেশ একটি অহংকার ও গৌরবোজ্জ্বল নাম। টাইগারদের প্রশংসায় আজ সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা পঞ্চমুখ।
সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ কেবল অনন্যসাধারণ ও অত্যুজ্জ্বল গৌরবময় বিজয়ই অর্জন করেনি, একই সঙ্গে সৃষ্টি করেছে জাতির জন্য শিহরণ-স্পন্দিত এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি। জিম্বাবুয়ে সফর শেষে তিন ম্যাচ ওডিআই সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ওয়াশ-আউট করে বাংলাদেশ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে মাত্র ১২ খেলায় ৮০ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উপনীত হয়েছে। এর বিপরীতে ১৫ খেলায় ৯৫ পয়েন্ট পেয়ে ইংল্যান্ডের অবস্থান প্রথম। অস্ট্রেলিয়া ৫০ পয়েন্ট পেয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে আর ৪৯ পয়েন্ট পেয়ে ভারতের অবস্থান চতুর্থ স্থানে। একই সময়ে আইসিসি ওডিআই ম্যাচে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আমাদের গৌরব ও অহংকার সাকিব আল হাসান অলরাউন্ডার হিসেবে রয়েছে খ্যাতির শীর্ষে। তার ক্রেডিটে রয়েছে ৪১৬ পয়েন্ট। আর আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী ২৯৬ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে এবং ইংল্যান্ডের ক্রিস ওয়েকস মাত্র ২৮২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। সারা বিশ্বের ক্রিকেট অনুরাগীরা রুদ্ধশ্বাসে অবলোকন করেছেন জিম্বাবুয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় ওডিআই ম্যাচে একেবারে হেরে যাওয়া ম্যাচে সাকিব কী দারুণ বুদ্ধিমত্তা ও নৈপুণ্য নিয়ে অপরাজিত ৯৪ রান তুলে দলকে বিজয়ী করে এক অসাধারণ রেকর্ড গড়েছে টাইগারদের নামের পেছনে। এজন্যই বুঝি আইসিসি যখন সাকিবকে লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড দিয়েছিল, তখন বিশ্বের অন্যতম ক্রিকেটব্যক্তিত্ব ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি আইসিসির কঠোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, সাকিবরা শতবছরে একবারই আসে। জয়তু সাকিব!
ওডিআইতে হোয়াইট ওয়াশ (আমাদের ব্র্যান্ড বাংলা ওয়াশ) করার আগেই আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও টেস্ট ক্রিকেটে আমরা একটু বেকায়দায় রয়েছি, তথাপি জিম্বাবুয়েকে এক ম্যাচ সিরিজে ২২০ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে টেস্টে আমাদের অবস্থান সম্মানজনক অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষ করে এই ম্যাচে নবম জুটিতে মাহমুদউল্লাহ ও তাসকিন জুটি ১৯১ রান গড়ে তোলেন, যা ছিল বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। মাত্র চার রানের জন্য এই জুটি বিশ্ব রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। নবম উইকেটের এই জুটিতে মাহমুদউল্লাহ করেন ১৫০ রান আর তাসকিন করেন ৭৫ রান।
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। গতকাল শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করে।
জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভাগ্যবিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। বৃষ্টির জন্য একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এতই অধৈর্য যে, সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করে দিলেন বিষোদ্গার। ক্রিকেটারদের চৌদ্দগোষ্ঠী নিয়ে গালমন্দ। কেউ আবার বিসিবির কর্মকর্তাদের কাদা ছোড়াছুড়ি ও কোন্দলকে দায়ী করলেন। অনেকে একধাপ এগিয়ে। ক্রিকেটপ্রেমী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দুষলেন। তাদের অনুযোগ, একবার জিতলেই প্রধানমন্ত্রী বাড়ি, গাড়ি, রাজকীয় সংবর্ধনা, টাকাকড়ি দিয়ে ক্রিকেটারদের মাথায় তুলে দেন- তাদের গায়ে চর্বি এসে যায়, তারা অহংকার আর আত্মতৃপ্তিতে টইটম্বুর হয়ে ওঠে। এজন্যই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পরাজয় বরণ করেছে। এই কথার উচিত জবাব দিয়েছে টাইগাররা যখন মাত্র ২৪ দিনের মাথায় অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে ২-১ ব্যবধানে সিংহলিদের হারিয়ে বাংলাদেশের টাইগাররা দেখিয়েছিল টিট ফর ট্যাট। এ বছরেই আরব আমিরাত ও ওমানে অনুষ্ঠিত হবে টি-২০ বিশ্বকাপ। আর আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ সুপার লিগের খেলা হবে ২০২৩ সালে। মাঝে মাত্র একটি বছর। এই খেলার বর্তমান পয়েন্ট টেবিলে আমরা দ্বিতীয় স্থানে। সাকিব অলরাউন্ডার ফরম্যাটে প্রথম স্থানে।
আমাদের দেশ আজ সুবর্ণ রেখায়। আমরা গৌরবে-সৌরভে পালন করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। একই সঙ্গে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে উদ্যাপন করছি আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। চতুর্দিক থেকে আসছে আমাদের বিজয়ের খবর, সাফল্যের খবর। বিশেষ করে টাইগারদের গর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা শুনতে পাচ্ছি ভবিষ্যতের অভ্রভেদী অহংকারের এক হিরণ্ময় বার্তা, আমাদের স্বপ্ন পূরণের হাতছানি। এখন কেবল দিন গোনার পালা, কখন আমাদের টাইগারদের লক্ষ্মীহাতের ছোঁয়ায় বিশ্ব ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি এসে পৌঁছবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ঈর্ষাকাতর ক্রিকেট প্লেয়িং দেশগুলো ও সারা ক্রিকেটপ্রেমী বিশ্ব দেখবে-হ্যাঁ, বাংলাদেশও পারে; বাংলাদেশই শ্রেষ্ঠ।
এবার কেবল দিনে গোনার পালা, যখন বিমুগ্ধ বিশ্ব দেখবে, ক্রিকেটপ্রেমীরা উল্লাসে মেতে উঠবে আর অহংকারী বাঙালি জাতির কণ্ঠে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হবে-হ্যাঁ, আমরাও পারি।





