একটি মার্কিন আপিল আদালত সোমবার ১৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম ফেডারেল কোর্টকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দিয়ে রুল ইস্যু করেছে। সুপ্রিম কোর্টে শেষ মূহূর্তের এক আবেদন পেন্ডিং রেখে এই রুলিং দেয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগামী কয়েক মাসে আরও তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সুচি নির্ধারণ করে রেখেছে। তারা বলছেন, যারা অপরাধের শিকার তাদের কথা ভেবেই প্রশাসন এ কাজ করেছে।
আরকানসাসে ড্যানিয়েল লি নামে এক ৪৭ বছর বয়সী এক শেতাঙ্গ ১৯৯৯ সালে এক বন্দুকের ডিলার, তার স্ত্রী এবং আট বছরের মেয়েকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। ইন্ডিয়ানার টেরে হাউতে কারাগারে লেথাল ইনজেকশন প্রয়োগ করে সোমবার তার মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দিন সাব্যস্ত হয়। এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের আত্মীয়রা করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিলম্বিত করার আবেদন জানান। কিন্তু ইন্ডিয়ানা জেলা আদালতের দক্ষিণ আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রোববার সপ্তম সার্কিটের আদালত আপিলের মাধ্যমে প্রত্যাখান হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পথ পরিস্কার হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আইনজীবী বাকের কুরস রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কারাগারে গমন নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তারা মত্যুদণ্ড কার্যকর করায় বিলম্ব করার প্রচেষ্টায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের কাছে তাদের আবেদন করবে। তাদের আশা, করোনার কারণে কারাগারে আসা-যাওয়া নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত মত্যুদণ্ড কার্যকর বিলম্বিত করা যাবে। তিনি জানান, ফেডারেল সরকার এই পরিবারকে ড্যানি লি’র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রত্যক্ষ করার অধিকার প্রদান ও তাদের নিজস্ব স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে ঝুলন্ত অবস্থানে রেখেছে।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ অপরাধের বিচার অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে করা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সন্ত্রাসবাদ বা বর্ণবাদী অপরাধের মতো গুরুতর মামলাগুলি গ্রহণ করে থাকে।
মার্কিন ফেডারেল কোর্টে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ২০০৩ সালে।
গত ৪৫ বছরে মার্কিন ফেডারেল কোর্টে মাত্র তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিমথী ম্যাকভি নামে এক ব্যক্তি ১৯৯৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ভবনে বোমা হামলায় ১৬৮ জনকে হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে ২০০১ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।





