২২ লাখ মানুষের স্বপ্নপুরণে বাধা চল্লিশ অবৈধ স্থাপনা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

বাংলাদেশ

ডিএনডি এলাকায় জলাবদ্ধতা ভোগান্তি 

২২ লাখ মানুষের স্বপ্নপুরণে বাধা চল্লিশ অবৈধ স্থাপনা

  • সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৭ জুন, ২০২১

ডিএনডি এলাকার ২২ লক্ষাধিক মানুষের জলাবদ্ধতা মুক্তির স্বপ্নপুরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চল্লিশটি অবৈধ স্থাপনা। জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ লাঘবে আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে এসব স্থাপনা। পাশাপাশি খনন করা খালে ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি চলাচল বিঘ্নিত করায় নিচু এলাকায় দেখা দিয়েছে কৃত্রিম বন্যা। পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক। দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। বর্ষার শুরুতেই এমন পরিস্থিতি হলে সামনে ভরা বর্ষায় পরিস্থিতি কেমন হতে পারে সে আতঙ্কে ভুগছে ডিএনডিবাসী। অবৈধ স্থাপনা, মানুষের অসচেতনতা আর অর্থ সংকটে চলমান কাজ স্থবির হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে বলে দাবি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।  

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য ২০১৬ সালে একনেকের সভায় একটি প্রকল্প পাস হয়। প্রকল্পটির জন্য ৫৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনষ্ট্রাকশন ব্রিগেডের ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনষ্ট্রাকশন। পরবর্তীতে প্রথম প্রকল্প সংশোধনী এনে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্প কাজের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত করে বরাদ্দ ৫৫৮ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি ৯৯ লাখ ৯ হাজার ১১৭ টাকা করা হয়। চলমান প্রকল্প কাজ সাড়ে তিনবছরে ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ৩৫০ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে কাজ করা হলেও অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ৬০ কোটি টাকা। ১১৮ কোটি ২৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা বিল প্রাপ্তি হয়েছে প্রকল্প কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারগণ। তারা বিনিয়োগ করতে না পেরে কাজ স্থগিত রেখেছে। অর্থ সংকট দূর করে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করে কাজ সচল রাখতে চলতি অর্থবছরে অন্তত জরুরি ভিত্তিতে ১২৫ কোটি টাকা ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সফদরসমূহে আবেদন করা হয়েছে। অর্থ ছাড় হলে কাজ সচল হয়ে উঠবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডিএনডি এলাকায় বহুতল ভবনসহ মোট ৯ হাজার ৮১০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দখলমুক্ত করা হয়েছে ১৯৬ দশমিক ২৫ হেক্টর জমি। বর্তমান বাজারে মৌজা দরে উদ্ধারকৃত জমির মূল্য দুই হাজার ৩৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৮০ টাকা। এখনো উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি চল্লিশটি অবৈধ স্থাপনা। যার মধ্যে ষোলটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আঠারোটি মসজিদ, একটি মন্দির, তিনটি পেট্রোল পাম্প, আওয়ামীলীগের একটি দলীয় কার্যালয় ও একটি পুলিশ ফাড়ি। পানি নিস্কাশন খাল দখল করে গড়ে উঠা স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে খনন ও পানি পানি চলাচলের উপযুক্ত করতে না পারায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

অবৈধ চল্লিশ স্থাপনা প্রসঙ্গে সূত্র জানায়, দখলদাররা আদালতে রিট করায় উচ্ছেদ অভিযান বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একজন সচিবের সঙ্গে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সভা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত হবে। পানি চলাচল বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল খনন করা সম্ভব হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads