২৩ বছরেও পূর্ণতা পায়নি সখীপুরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

২৩ বছরেও পূর্ণতা পায়নি সখীপুরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ

  • সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৯৭১ সালে সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল ছিল কাদেরীয়া বাহিনীর ক্যাম্প। মুক্তিযুদ্ধের সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে ১৯৯৬ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করার কথা থাকলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্মৃতিসৌধটির নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এ স্মৃতিস্তম্ভটি।

জানা যায়, সখীপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে বহেড়াতৈল বাজারের পাশেই নির্মিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ। উঁচু নিচু টিলার উপর বিস্তৃত সবুজ ঘাসের গালিচায় আবৃত স্মৃতিস্তম্ভের পাশেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবর। ১৯৭১ সালের ১০ জুন মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীনের লক্ষ্যে এখানেই পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ করেন। এ ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ অঞ্চলের কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এছাড়াও এখানে বিশ্রামাগার, কবরস্থান, মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘরসহ পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। স্মৃতিস্তম্ভটির নকশায় নানা বৈচিত্র্য ও স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য, উদীয়মান সূর্যের প্রতীকসহ শহীদের স্মৃতিকে স্মরণ ধরে রাখতে বহুমুখি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

পরিকল্পনায় ছিলো- বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত নিদর্শন ও স্মারক চিহ্নসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য, প্রমাণাদি, নিদর্শন, রৈকর্ডপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ করে রাখা হবে এখানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে। একাধিক গ্যালারিতে প্রদর্শিত হবে বাঙালির ঐতিহ্যের পরিচয় এবং পাকিস্তানী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিহ্ন। দেশভাগ পরবর্তী পাকিস্তানি শাসন-শোষণের ইতিহাস। এছাড়াও ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’য়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১’ এর স্বাধীনতা সংগ্রামের বিমূর্ত চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে চার দেয়ালের মুর‌্যালে। একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন, ২৫শে মার্চ সংঘটিত গণহত্যা, স্বাধীনতার ঘোষণাসহ শরণার্থীদের জীবনচিত্র। প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক, কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে বাংলার নারী পুরুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, পাকিস্তান সেনা ও তাদের দোসর কর্তৃক বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং সবশেষে বাঙালির বিজয় দৃশ্য।

বিশাল উচ্চতার স্মৃতিস্তম্ভ এবং এর মহাপরিকল্পনা ধাপেধাপে নির্মিত ও বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলে নানা জটিলতায় তা শেষ হয়নি। পরিকল্পনার ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও  অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এ স্মৃতিসৌধটি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads