‘আমাদের বেঁচে থাকাই দায়’

পাঁচবিবির ভাজাওয়ালা নেপাল ঘোষ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

‘আমাদের বেঁচে থাকাই দায়’

  • পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

হরেক রকমের মুখোরোচক ভাজা ও মুড়িমশলা তিন চাকার ভ্যানে পরিপাটি করে সাজিয়ে পাঁচবিবি পৌর পার্কের গেটে নিয়মিত বিক্রি করেন মাষ্টার পাড়ার ভাজাওয়ালা নেপাল ঘোষ। এই ভাজা বিক্রির মুনাফা দিয়েই দু’ছেলের (১জন এস,এস,সি পরীক্ষার্থী অন্যজন জে,এস,সি পরীক্ষার্থী) পড়ালেখাসহ সংসারের খাওয়া খরচ চালাতে হয়। চলছিল বেশ। বেচাবিক্রি প্রচুর হত। পাশাপাশি অবস্থিত গালর্স ও বয়েজ ২টি সরকারি স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা ছিল তার নিয়মিত খদ্দের। এছাড়াও পার্কে ঘুরতে আসা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিকট নেপাল ঘোষের মুড়িমসলা ও বারোভাজা লোভনীয় খাবার। ফলে প্রতিদিন বেচাবিক্রি শেষে খরচা-পাতি বাদ দিয়ে ৪/৫ শত টাকা তার মুনাফা থাকত। সংসার খরচ গরিবী হালে চলে যেত। কারো কাছে হাত পাততে হত না নেপাল ঘোষকে।

কিন্তু করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে ভালো নেই ভাজাওয়ালা নেপাল ঘোষ। তিনি বলেন, আমার মাথায় যেন বাজ ভেঙ্গে পড়েছে। বেচাবিক্রি চার ভাগের এক ভাগে নেমেছে। স্কুল বন্ধ থাকায় আমার আসল খদ্দের ছাত্র ছাত্রীরা আর আসে না। আগে বিকেল বেলা ছোট বড় সবধরনের লোকে পার্ক ভরে যেত, আমার বেচা বিক্রিও হত প্রচুর। এখন সারা দিনে বেচা বিক্রি হয় মাত্র ৩/৪শত টাকা। খরচ বাদ দিলে এক/দেড় শত টাকা লাভ টিকে, কোন দিন তাও টিকে না। সংসারে ৪ জন মানুষের খাওয়া পড়ার খরচ চালাতে নান্তনাবুদ হয়ে যাচ্ছি। আমার মত ছোট ছোট গরীব ভাজাওয়ালা মুড়িওয়ালা সবার একই অবস্থা। এখন যে কি করি, কোন কুল কিনারা পাই না। আমাদের বেঁচে থাকাই দায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads