‘ঘটনাটি হূদয়বিদারক ও বাজে দৃষ্টান্ত’

হাইকোর্ট

আইন-আদালত

‘ঘটনাটি হূদয়বিদারক ও বাজে দৃষ্টান্ত’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানে কমিটি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। এক মাসের মধ্যে আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায় দেখাতে একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরি করে আদালতে দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অপর চার সদস্য হবেন একজন মনোবিদ, একজন আইনজীবী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের নিচে নয় একজন কর্মকর্তা ও একজন শিক্ষাবিদ।  

অরিত্রীর আত্মহননের ঘটনা নজরে আনা হলে শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালত অরিত্রীর আত্মহননের মতো ঘটনা প্রতিরোধের উপায় খুঁজতে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

একাধিক দৈনিকে অরিত্রীর আত্মহননের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন চার আইনজীবী অনিক আর হক, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনুন্নাহার সিদ্দিকা, জেসমিন সুলতানা। আদালত এ ঘটনার সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে আনার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দুপুরে এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে। এর ধারাবাহিকতায় দুপুরে এসব আদেশ দেন।

এর আগে আরেকটি বেঞ্চে আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন ঘটনাটি আদালতে উপস্থাপন করেন।

পরে আইনজীবী অনিক আর হক বলেন, আদালত বলেছেন এ ধরনের ঘটনা দেশে প্রায়ই ঘটছে। তাই শিক্ষার্থীদের বয়োসন্ধিকালে তাদের কাউন্সেলিং এবং শিক্ষকদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন করে কাউন্সেলর নিয়োগের পদ তৈরি এবং নিয়োগের বিষয়গুলো তুলে ধরে একটি নীতিমালা তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে।’ 

ওদিকে অরিত্রীর আত্মহননের ঘটনা হূদয়বিদারক ও অভিভাবকদের অপমান করার ঘটনা বাজে দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ। আইনজীবী সাইয়েদুল হক সুমন ঘটনা নজরে আনলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

পরে সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলেছি এ ধরনের একটি সঙ্কেত যদি সারা দেশে যায়, যে ভালো স্কুলে, ভালো করার উপায় হচ্ছে কঠোর শাসন। আর এই শাসনের মাত্রা এমন পর্যায়ে যাবে যে দুই-একজন আত্মহত্যাও করতে পারে।’

গত সোমবার ভিকারুননিসা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর বাবা-মায়ের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে।

এ ছাড়া অরিত্রীর ঘটনায় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ পাঁচজনের সাময়িক বরখাস্ত চেয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতিকে নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads